Published : 01 Dec 2025, 04:07 PM
যে ঘটনায় রোববার রাতে ঢাকায় মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ ছিল, বগির ছাদে কিশোর ওঠার সেই ঘটনা তুলে ধরেছেন ডিএমটিসিএল কর্মকর্তারা।
মেট্রোরেল পরিচালকারী এ কোম্পানির কর্মকর্তারা প্রত্যক্ষদর্শী ও সিসিটিভি ভিডিও দেখে ঘটনা বর্ণনা করার চেষ্টা করেছেন। ওই কিশোর কীভাবে ছাদে ওঠে তা স্পষ্ট হলেও তার আগে দুই বগির মাঝে কখন সে ঢুকে পড়ে সে সম্পর্ক ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে।
সচিবালয় স্টেশনে দায়িত্বে থাকা ডিএমটিসিএলের এক কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ছেলেটি টিএসসি থেকে মেট্রোতে উঠে আগারগাঁওয়ে যায়। সেখান থেকে মেট্রোরেল বদল করে আবার সচিবালয়ের দিকে আসে। আগারগাঁওয়ে ট্রেন বদলের সময় দুই বগির সংযোগস্থলে সে প্রবেশ করেছে নাকি নাকি সচিবালয় স্টেশনে নেমে দুই বগির সংযোগস্থলে গেছে তা বোঝা যায়নি।
“তবে সচিবালয় স্টেশনে ট্রেন অবস্থােনের সময় দুই বগির সংযোগস্থলে অবস্থানের সময় কিশোরকে দেখে ফেলে নিরাপত্তা কর্মীরা। তখন ভয় পেয়ে দ্রুত ট্রেনের ছাদে উঠে যায়। ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকার কারণে এবং বৈদ্যুতিক লাইনে টাচ না লাগায় বড় কোনো বিপদ হয়নি।”
মেট্রোলাইন-৬ এর উপ-প্রকল্প পরিচালক (গণসংযোগ) আহসান উল্লাহ শরিফীর পাঠানো আগারগাঁও, টিএসসি ও সচিবালয় স্টেশনের ভিডিওতে দেখা যায়, টিএসসি স্টেশনে ওই কিশোর স্বাভাবিক নিয়মে দ্রুত একটি বগিতে উঠে পড়ে। আবার ছেলেটি আগারগাঁও স্টেশনে নেমে দ্রুত প্লাটফর্ম বদল করে। পরে সচিবালয় স্টেশনে দুই বগির মাঝে অবস্থান নিয়ে ছাদে উঠার চেষ্টা করছে। তবে নিরাপত্তা কর্মীরা এগিয়ে এলে ওই কিশোর দ্রুত ছাদে উঠে পড়ে। পরে নিরাপত্তা কর্মীরা মই দিয়ে তাকে নিচে নামিয়ে আনে।
ছাদে উঠে পড়ার ঘটনায় বড় বিপদ ঘটতে পারত বলে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে মন্তব্য করেন ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদ।
তিনি বলেন, “সে যে বিদ্যুতায়িত হয়নি, এটা সৌভাগ্য। এর থেকে হয়তো আরো বড় কিছু হতে পারত।”
মেট্রোরেলের ছাদে কিশোর উঠে পড়ার পর রোববার রাত ৮টা ৫মিনিটে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে নিরাপত্তাকর্মীরা মই লাগিয়ে তাকে নামিয়ে আনলেও রাতে আর ট্রেন চালানো যায়নি। ফলে ভোগান্তিতে পড়ে বহু মানুষ।
ডিএমটিসিএলের এমডি ফারুক বলেন, “ওই ঘটনায় রাতভর পুরো মেট্রো ট্র্যাকে তল্লাশি চালানো হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে আবার যথা নিয়মে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে।
“পাবলিক সেইফটি ইজ ফার্স্ট। এটা আমরা মেনটেইন করবই।”
রাতের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ফারুক আহমেদ বলেন, “গত রাতে আমরা একজন বাচ্চাকে পেয়েছি। আরো দুজন প্রায় উপরে উঠে গিয়েছিল। আমরা ভিডিওতে দেখেছি ছেলেটি কারওয়ান বাজারের কোনো এক জায়গা থেকে উঠেছে। সেখান থেকে আগারগাঁও আসে। সেখানে এসে ট্রেন চেঞ্জ করে। সে দুইটা ট্রেনের সংযোগস্থল দিয়ে উঠে যায়। তারপর সচিবালয় স্টেশনে যাওয়ার পরে সে ছাদের উপর ওঠে।
“সাথে সাথে সিকিউরিটি বিষয়টা জানিয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে ট্রেন অপারেশন বন্ধ করা হয়। … আমরা প্রায় ২ থেকে ৩ ঘণ্টা পুরো লাইনে তাদেরকে সার্চ করি। আমরা দেখার চেষ্টা করেছি কোথাও কেউ নামছে কি না। আমরা সারারাত ফিজিক্যালি সার্চ করেছি। সকালে সুইপ ট্রেন দিয়েও দেখা হয়েছে।”
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সব পাবলিক দরজা দিয়েই ট্রেনে ঢুকবে। কিন্তু কোনো একজন ১৬টা দরজার কোনো এক ফাঁক দিয়ে ঢুকেছে। তার উদ্দেশ্য কী ছিল সেটা আমরা এখনো জানি না। এটা পুলিশ দেখবে।
“একজনের পিছনে একজনকে তো সিকিউরিটি হিসেবে দেওয়া সম্ভব না। আমরা সিসিটিভি দিয়েছি সিকিউরিটি সলিউশনের জন্য। আমরা এখন থেকে আরও ভিজিলেন্ট হওয়ার জন্য ইম্প্রুভ করব। আমরা এখন স্টেশনগুলোর নিচেও সিসি ক্যামেরা লাগানোর ব্যবস্থা করছি। তাতে অন্তত উৎস কোথা থেকে, সেটা আমরা বুঝতে পারব।”