১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

রাজধানীতে ফের রাস্তায় কোটা বিরোধীরা

অফিস শেষে দুর্ভোগে পড়েছেন ঘরমুখো মানুষ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 08 Jul 2024, 07:24 PM

Updated : 26 Aug 2026, 09:57 AM

আদালতের রায়ে সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা ফেরার পর যে আন্দোলন শুরু হয়েছে, তার অংশ হিসেবে ষষ্ঠ দিনের মতো রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা।

সোমবার শাহবাগ, সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় ও গুলিস্তানে জিরো পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন তারা। আন্দোলনকারীদের একটি অংশ হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনের রাস্তাও অবরোধ করেছেন। এতে চারপাশের রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।

এদিকে সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন ঢাকা কলেজ ও ইডেন কলেজের শিক্ষার্থীরা। তাতে ওই পথে চলাচলকারী মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। অফিস সময় শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি আরো জটিল আকার ধারণ করেছে।

এর আগে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারের সামনে থেকে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ ব্যানারে মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন, মল চত্বর, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল, ভিসি চত্বর ও রাজু ভাস্কর্য ঘুরে শাহবাগে এসে অবস্থান নেয়।

বিক্ষোভ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা 'হাই কোর্ট না শাহবাগ;  শাহবাগ,  শাহবাগ', '১৮ এর হাতিয়ার গর্জে উঠুক আরেকবার,'  'কোটা না মেধা, মেধা মেধা', 'সারা বাংলায় খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে',

'১৮ এর পরিপত্র পুনর্বহাল করতে হবে', 'সংবিধানের মূল কথা সুযোগের সমতা', 'কোটা প্রথা নিপাত যাক, মেধাবীরা মুক্তি পাক' এমন নানা স্লোগান দেন।

এদিন বিকালে গুলিস্তানের জিরো পয়েন্ট অবরোধ করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিপ্রত্যাশী শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীরাও। 

এর আগে বিকাল সাড়ে ৩টায় আন্দোলনকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঁঠালতলা থেকে একটি মিছিল বের করেন। পুলিশের কাছ থেকে তাঁতীবাজার পর্যন্ত অনুমতি নিলেও মিছিলটি বংশালে পুলিশের ব্যারিকেড উপেক্ষা করে গুলিস্তানের দিকে যায়। 

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর সরকারি চাকরিতে নারী কোটা ১০ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ শতাংশ এবং জেলা কোটা ১০ শতাংশ বাতিল করে পরিপত্র জারি করে সরকার।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা ওই পরিপত্রে বলা হয়, নবম গ্রেড (আগের প্রথম শ্রেণি) এবং দশম থেকে ১৩তম গ্রেডের (আগের দ্বিতীয় শ্রেণি) পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি বাতিল করা হল। এখন থেকে মেধারভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে।

তবে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে কোটা বাতিল হলেও তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদে কোটা ব্যবস্থা আগের মতই বহাল থাকবে বলে ওই পরিপত্রে বলা হয়।

ওই পরিপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০২১ সালে হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান অহিদুল ইসলামসহ সাতজন।

গত ৫ জুন কোটা পুনর্বহাল করে রায় দেয় হাই কোর্ট। ওই দিনই রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করেন চাকরিপ্রত্যাশী তরুণরা। ১ জুলাই থেকে তারা কোটা বাতিলসহ চার দফা দাবিতে বিক্ষোভ করছেন।

‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ ব্যানারে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের চলমান আন্দোলনের মধ্যে রোববার ঢাকার শাহবাগ, সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়, নীলক্ষেত, বাংলামোটর, কারওয়ানবাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ সাতটি মোড় প্রায় পাঁচঘণ্টা অবরোধ করে পূর্বঘোষিত ‘বাংলা ব্লকেড’ পালন করেন আন্দোলনকারীরা। পরদিনও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে একই কর্মসূচি পালন করছেন তারা। 

আন্দোলনকারীদের ৪ দফা দাবি হলো-

১. ২০১৮ সালে ঘোষিত সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র বহাল রাখা।

২. পরিপত্র বহাল সাপেক্ষে কমিশন গঠনপূর্বক দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারি চাকরির সমস্ত গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাদ দেওয়া (সুবিধাবঞ্চিত ও প্রতিবন্ধী ব্যাতীত)।

৩. সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার করা যাবে না এবং কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্যপদগুলোতে মেধা অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া।

৪. দুর্নীতিমুক্ত, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক আমলাতন্ত্র নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।