১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি: হাই কোর্টে ক্ষতিপূরণের রুল শুনানির জন্য প্রস্তুত

রিট আবেদনে নিহত প্রত্যেকের পরিবারের জন্য পাঁচ কোটি টাকা এবং আহতদের প্রত্যেকের জন্য এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 03 Aug 2026, 08:59 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:47 PM

রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় হতাহতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ চেয়ে করা রিট আবেদনের ওপর জারি করা রুল, ঘটনার এক বছর পর চূড়ান্ত শুনানির জন্য প্রস্তুত হয়েছে।

বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি হবে বলে সোমবার তথ্য দিয়েছেন রিটকারী আইনজীবী আনিসুর রহমান রায়হান। তবে কবে এই শুনানি হবে তা এখনো ঠিক হয়নি। 

মামলার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আনিসুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ বিবাদীরা তাদের জবাব দাখিল করেছেন। প্রায় এক বছর পর রিটটি চূড়ান্ত শুনানির জন্য প্রস্তুত হয়েছে। আদালতের নজরে আনার পর আদালত শুনানির জন্য এটি গ্রহণ করেছেন এবং নিয়মিত কার্যতালিকায় শুনানি হবে বলে জানিয়েছেন।

“আমরা নিহত প্রত্যেকের পরিবারের জন্য পাঁচ কোটি টাকা এবং আহতদের প্রত্যেকের জন্য এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়েছিলাম। পাশাপাশি আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা, দেশে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সম্ভব না হলে বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং প্রতিটি শিক্ষার্থীর পরিচয়পত্রে রক্তের গ্রুপ ও অভিভাবকের ফোন নম্বর সংযুক্ত রাখার নির্দেশনাও চেয়েছিলাম। এগুলোই রুলের টার্মস ছিল।

“রিট আবেদনের পর তৎকালীন বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি জাহেদ মনসুরের বেঞ্চ চার সপ্তাহের রুল জারি করেন। একই সঙ্গে আহতদের সরকারিভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে এবং দেশে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সম্ভব না হলে বিদেশে পাঠানোর নির্দেশ দেন।”

দ্রুত রুলের নিষ্পত্তি হবে আশা প্রকাশ করে এই আইনজীবী বলেন, “আমরা আশা করছি, আদালত রুলটির দ্রুত নিষ্পত্তি করবেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবেন।”

২০২৫ সালের ২১ জুলাই ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৩৬ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ২৮ জন ছিলেন শিক্ষার্থী। এছাড়া ৩ জন শিক্ষক, ৩ জন অভিভাবক, একজন আয়া এবং বিমানটির পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলাম নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হন শতাধিক মানুষ। 

ঘটনার পরদিন, ২২ জুলাই জনস্বার্থে হাই কোর্টে ক্ষতিপূরণের রিট আবেদন করেন আইনজীবী আনিসুর রহমান রায়হান।

একই ঘটনায় উচ্চ আদালতে পৃথক আরেকটি রিট আবেদন করে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)। সেই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রকাশ এবং ভুক্তভোগীদের তার অনুলিপি দিতে নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববর্হিভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে হাই কোর্ট।

বিমান বিধ্বস্তের ঘটনার ছয় দিন পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার ৯ সদস্যের একটি তদন্ত কমিশন গঠন করে। কমিশনকে দুর্ঘটনার কারণ, দায়দায়িত্ব ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে ওই বছরের ৫ নভেম্বর কমিশন তাদের প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেয়।

আরও পড়ুন: 

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি: ঝুলে আছে ক্ষতিপূরণের অর্থ