১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে কাজ চলছে: আইনমন্ত্রী

“বর্তমান সরকারও আইনগত সহায়তা ব্যবস্থাকে আরো কার্যকর, আধুনিক ও জনমুখী করতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”

সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে কাজ চলছে: আইনমন্ত্রী
সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি বিষয়ক এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 30 Jul 2026, 04:26 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:45 PM

মামলার জট নিরসনে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে সরকারের উদ্যোগের কথা বলেছেন আইন ও বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “মামলার জট নিরসনে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে আইনি সহায়তা ও মধ্যস্থতা কার্যক্রম পরিচালনাকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ে তোলা হয়েছে।”

আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আইনগত সহায়তা কার্যক্রম ১৯৯৪ সালে প্রশাসনিক আদেশের মাধ্যমে শুরু হয় এবং ২০০০ সালে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে তা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে। পরবর্তীকালে আইনটিকে সময়োপযোগী করতে বিভিন্ন সংশোধন আনা হয়েছে। 

“বর্তমান সরকারও আইনগত সহায়তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, আধুনিক ও জনমুখী করতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”

মামলার জট কমানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর-ডিবিএলএর সঙ্গে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট-ব্লাস্ট এবং ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা (সেল্‌প) কর্মসূচির সঙ্গে পৃথক দুটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর হয়েছে সেই অনুষ্ঠানে।

সরকারের একার পক্ষে মামলার জট নিরসন সম্ভব নয় তুলে ধরে আসাদুজ্জামান বলেন, “এজন্য দীর্ঘদিন ধরে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পাশে কাজ করা এবং মধ্যস্থতায় দক্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে হবে। ব্লাস্ট ও ব্র্যাকের সঙ্গে আজকের সমঝোতা স্মারক সেই যৌথ উদ্যোগেরই অংশ।”

তিনি মনে করেন এসবের কারণে আদালতে নতুন মামলা দায়েরের প্রবণতা কমবে এবং বিচারপ্রার্থীরা দ্রুত ও কার্যকর সেবা পাবেন।

মন্ত্রী বলেন, “সাম্প্রতিক এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, দেশের ২০টি জেলায় নির্দিষ্ট কয়েকটি আইনের আওতায় ২০২৬ সালের মার্চ থেকে মে মাসে নতুন মামলা দায়েরের হার আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬২ শতাংশেরও বেশি কমেছে। 

“এটি বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি কার্যক্রমের ইতিবাচক ফলাফল এবং ভবিষ্যতের জন্য আশাব্যঞ্জক।”

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী ব্লাস্টের সহযোগিতায় ঢাকা, গাজীপুর ও চট্টগ্রামে পরীক্ষামূলকভাবে ‘কোর্ট প্যারালিগ্যাল’ নিয়োগের মাধ্যমে শ্রমিকদের আইনি সহায়তা প্রদান করা হবে। একই সঙ্গে ব্লাস্ট পরিচালিত সফল মধ্যস্থতাকে আইনগত স্বীকৃতি এবং ব্যর্থ মধ্যস্থতার ক্ষেত্রে আদালতে মামলা দায়েরের জন্য প্রয়োজনীয় প্রত্যয়নপত্র প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে।

ব্র্যাকের সেল্‌প কর্মসূচির সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় পেশাদার মধ্যস্থতাকারীদের প্রশিক্ষণ, সনদ প্রদান, সফল মধ্যস্থতার আইনগত স্বীকৃতি, ব্যর্থ মধ্যস্থতার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন প্রদান এবং যৌথ মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এসএম এরশাদুল আলম ও মো. খাদেম উল কায়েস, বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মনজুরুল হোসাইন, ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনগত সুরক্ষা কর্মসূচি (এসইএলপি) ও জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক শাশ্বতী বিপ্লব, ব্লাস্টের অবৈতনিক নির্বাহী পরিচালক সারা হোসেন।