২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

হাদি হত্যার বিচার চেয়ে যমুনার সামনে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান

জাতিসংঘের অধীনে ‘নিরপেক্ষ তদন্ত’ দাবি করেছে সংগঠনটি।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 05 Feb 2026, 09:08 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:52 PM

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদী হত্যার বিচার দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান নিয়েছেন সংগঠনটির সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে পুলিশের বাধা ঠেলে যমুনার সামনে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে শুরু করেন সংগঠনটির বেশ কিছু সদস্য। তারা পুলিশের ব্যারিকেডের সামনে অবস্থান নিয়েছেন।

অবস্থানকালে তাদের ‘এক হাদি লোকান্তরে, লক্ষ হাদি লড়াই করে’, ‘দিয়েছি তো রক্ত, আরও দেব রক্ত,’ ‘রক্তের বন্যায়, ভেসে যাবে অন্যায়’, ‘গোলামী না আজাদী, আজাদী-আজাদী’, নারায়ে তাকবীর, আল্লাহু আকবর’, ‘বিচার বিচার বিচার চাই, হাদি হত্যার বিচার চাই’ এর মত নানা স্লোগান দিতে দেখা যায়। 

দুইদিন আগে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এরমধ্যেই সংগঠনটির ব্যানারে সেখানে অবস্থান নিয়েছেন সদস্যরা।  

রমনা বিভাগের ডিসি মাসুদ আলম রাত পৌনে ৯টায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ওরা দাবি তুলেছে জাতিসংঘের মাধ্যমে তদন্ত করার। আমরা ওদের সাথে কথা বলছি।”

রাত সোয়া ৮টার দিকে ইনকিলাব মঞ্চের ফেইসবুক পেইজে বলা হয়, “চারপাশে শত-শত পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের দিয়ে আমাদেরকে ঘিরে রাখা হয়েছে। লাঠিসোঁটা নিয়ে তারা প্রস্তুতি নিচ্ছে। 

“আমাদেরও শেষ কথা - শহিদ ওসমান হাদির হত্যার নিরপেক্ষ তদন্ত জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে হস্তান্তর না করা অবধি আমাদের মেরে ফেলা হলেও আমরা একচুলও আমাদের অবস্থান থেকে সরবো না৷”

এর আগে বিকেল পৌনে ৫টার দিকে ইনকিলাব মঞ্চের ফেইসবুক পেইজে এ অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।

এসময় সংগঠনের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবিরসহ তিনজনকে সেখানে অবস্থান নিতে দেখা যায়। 

পরে সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে সংগঠনটির আরেকটি ফেইসবুক পোস্টে বলা হয়, “জাতিসংঘের অধীনে শহীদ ওসমান হাদির হত্যার তদন্তের ব্যাপারে আগামী ১ ঘণ্টার মধ্যে যদি মুহাম্মদ ইউনুসের তরফ থেকে কোনো বার্তা না আসে, ছাত্র-জনতাকে যমুনার সামনে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করা হলো।”

পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা যমুনার সামনে গিয়ে অবস্থান নেন।

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্ববায়ক হাদি রাজধানীর বিজয়নগরে গুলিবিদ্ধ হওয়ার ছয় দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিঙ্গাপুরে মারা যান।

জুলাই অভ্যুত্থান ও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া হাদি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর গণসংযোগের জন্য বিজয়নগর এলাকায় গিয়ে তিনি আক্রান্ত হন। চলন্ত রিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করেন চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা এক যুবক।

গুরুতর আহত হাদিকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে অস্ত্রোপচার করার পর ওই রাতেই তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর দুদিন পর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১৮ ডিসেম্বর হাদির মৃত্যুর খবর আসে।

হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটিতে হত্যার ৩০২ ধারা যুক্ত হয়। এরপর থানা পুলিশের হাত ঘুরে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ডিবি পুলিশকে।

তদন্ত শেষে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে আসামি করে গত ৬ জানুয়ারি হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দেয় গোয়েন্দা পুলিশ।

অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিরা হলেন- প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ (৩৭), তার বাবা মো. হুমায়ুন কবির (৭০), মা হাসি বেগম (৬০), স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া (২৪), শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু (২৭), বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা (২১), মো. কবির (৩৩), মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল (৩৪), ভারতে পালাতে সহায়তার অভিযোগ থাকা সিবিয়ন দিউ (৩২), সঞ্জয় চিসিম (২৩), মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু (৩৭) ও হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র-গুলি উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার মো. ফয়সাল (২৫), মো. আলমগীর হোসেন ওরফে আলমগীর শেখ (২৬), সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, ভারতে পালাতে সহায়তাকারী ফিলিপ স্নাল (৩২), মুক্তি মাহমুদ (৫১) ও জেসমিন আক্তার (৪২)।

তাদের মধ্যে ফয়সাল করিমসহ শেষের পাঁচজন পলাতক রয়েছেন।