০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ: শাহবাগ ছাড়লেন সুপারিশপ্রাপ্তরা

পদায়নের নতুন তারিখ ঘোষণা দেওয়ার পর তারা এ সিদ্ধান্ত নেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 02 Aug 2026, 03:37 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:30 PM

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে দ্রুত যোগদানের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান নেওয়া সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা সড়ক ছেড়েছেন।

রোববার দুপুর সোয়া ২টার পর তারা জাতীয় জাদুঘরের সামনের সড়ক ছেড়ে দেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য ১৪ হাজার ৩৮৪ জন নির্বাচিত হন। প্রায় ছয় মাস হতে চললেও যোগদান ও পদায়ন না করায় সুপারিশপ্রাপ্তরা রোববার অবস্থান কর্মসূচির ডাক দেন।

এর মধ্যে শনিবার রাতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তাদেরকে আগামী ২৯ অক্টোবর যোগদান করানো হবে।

তাতে নাখোশ হয়ে সুপারিশপ্রাপ্তরা রোববার সকালে শাহবাগে জড়ো হতে থাকেন। এর মধ্যে মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী ১ অক্টোবর তাদের যোগদান করানো হবে, আর পদায়ন করা হবে পরদিন।

এদিকে জাতীয় জাদুঘরের সামনের সড়কে আন্দোলনকারীরা অবস্থান নেওয়ায় সড়কের একপাশ দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। 

আন্দোলনকারীরা তখন বলেন, পদায়নের তারিখ ২ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে, অথচ সেদিন শুক্রবার। পদায়নের বাস্তবসম্মত দিন ঘোষণা করা হলে তারা সড়ক ছেড়ে দেবেন।

এরপর দুপুর সোয়া ২টার দিকে মন্ত্রণালয়ের তরফে পদায়নের জন্য নতুন দিন ৪ অক্টোবর ঘোষণা করা হয়। তার পরপরই আন্দোলনকারীরা সড়ক ছেড়ে দেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৫ সালের শেষ দিকে ৬১ জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল।

প্রথম ধাপে গত ৫ নভেম্বর রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের স্কুলগুলোর ১০ হাজার ২১৯টি সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ পায়। দ্বিতীয় ধাপে ১২ নভেম্বর ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের স্কুলগুলোর ৪ হাজার ১৬৬টি শূন্য পদ পূরণে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।

দুই ধাপের মোট ১৪ হাজার ৩৮৫টি পদ পূরণে ৬১টি জেলায় গত ৯ জানুয়ারি লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তাতে অংশ নেন ৮ লাখ ৩০ হাজার ৮৮ জন প্রার্থী।

এরপর ২১ জানুয়ারি প্রকাশিত ফলে ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে তাদের মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে নিয়োগের জন্য ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয় ফেব্রুয়ারির ৮ তারিখে।

এরপর ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের সরকার বদলে যায়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ‘তড়িঘড়ি’ করে প্রার্থীদের চূড়ান্ত করা হয়েছে।

পরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সুপারিশপ্রাপ্তদের আগের কার্যকলাপ ‘পুলিশি তদন্তের’ মাধ্যমে যাচাই করতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসকে নির্দেশ দেয়।

আরও পড়ুন:  

প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ: সুপারিশপ্রাপ্তদের শাহবাগে অবস্থান

প্রাথমিকে ‎১৪ হাজার শিক্ষকের যোগদান ১ অক্টোবর