১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

টিটন হত্যা: সন্দেহভাজন পিচ্চি হেলালের বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচারের’ অভিযোগ

“আমাদের পারিবারিক কলহের যে দাবি তিনি করেছে তা সম্পূর্ণ বানোয়াট।”

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 02 May 2026, 09:01 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:32 PM

রাজধানীতে ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ খন্দকার নাইম আহমেদ টিটন হত্যার ঘটনা ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার।

টিটনের বড়ভাই খন্দকার সাঈদ আক্তার রিপন বলেন, ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ পিচ্চি হেলাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ‘প্রচারণা’ চালাচ্ছেন।

শনিবার বিকালে ঢাকার সেগুনবাগিচায় ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন-ক্র্যাব কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসে রিপন এ অভিযোগ করেন।

টিটন হত্যার ঘটনায় নিউমার্কেট থানায় দায়ের করা মামলার বাদী তিনি। 

মামলায় অজ্ঞাত পরিচয়ের ৮-৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে মামলার বাদী পিচ্চি হেলাল, কিলার বাদল, শাহজাহান এবং ভাঙারি রনিকে সন্দেহভাজন হিসেবে দেখিয়েছেন বলে নিউ মার্কেট থানার এক কর্মকর্তা বলেছেন। রিপন অভিযোগ করেছেন, তারা কিছুদিন আগে বছিলায় গরুর হাট নিয়ে টিটনকে হুমকি দিয়েছিলেন।

গেল মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে নিউ মার্কেটের পাশে টিটনকে গুলি করে হত্যা করে মাস্ক পরিহিত দুজন মোটরসাইকেল আরোহী। 

বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় ২০০১ সালে পুলিশ যে ২৩ ‘শীর্ষ সন্ত্রাসীর’ তালিকা প্রকাশ করে সেখানে টিটনের নামও ছিল। 

তার ভগ্নিপতি আরেক ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ সানজিদুল ইসলাম ইমন। তারা দুজনই মোহাম্মদপুরের ‘সন্ত্রাসী চক্র’ হারিছ-জোসেফ গ্রুপে যুক্ত ছিলেন।

ইমন এবং তার স্ত্রী পরিকল্পিতভাবে টিটনকে হত্যা করেছেন, বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে পিচ্চি হেলালের এমন বক্তব্য এসেছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

হেলালের দাবি কারাগারে একসাথে থাকার সময় টিটন তার বোন এবং বোন জামাই ইমনের দ্বারা হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে পারেন বলে আশংকা প্রকাশ করে।

সংবাদ সম্মেলনে রিপন বলেন, “গত ২৮ এপ্রিল রাতে আমার ছোট ভাই টিটনকে হত্যার পর প্রধান আসামি পিচ্চি হেলাল একটি অডিও রেকর্ড ছড়িয়ে দিয়ে নানা ধরনের মিথ্যাচার করছেন। 

“আমাদের পারিবারিক কলহের যে দাবি তিনি করেছে তা সম্পূর্ণ বানোয়াট। মূলত তদন্ত কর্মকর্তাদের বিভ্রান্ত করতেই তিনি এই অপকৌশল নিয়েছে।”

এদিকে পিচ্চি হেলাল তার বক্তব্যে দাবি করেছেন, টিটন এবং তার ভাই রিপনের মোবাইল ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষা করলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে। 

সংবাদ সম্মেলনে রিপন বলেন, “পিচ্চি হেলালরে সাথে টিটনের কারাগারে ঝামেলা হয়েছিল। তাছাড়া আমার এবং টিটনের মোবাইল ফোন ফরেনসিক করার জন্য পিচ্চি হেলাল যে দাবি করেছে সে জন্য প্রস্তুত আছি। 

“কিন্তু পিচ্চি হেলালের ফোনও জব্দ করার দাবি জানাচ্ছি। তাহলে সত্য ঘটনা প্রকাশ পাবে।”

রিপনের দাবি, পিচ্চি হেলাল মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে প্রকৃত ঘটনা ‘আড়াল’ করার এবং নিজেকে ‘আড়াল’ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, “আমাদের ১১ ভাই-বোনের মধ্যে সুসম্পর্ক রয়েছে। আমার বোন ও ভগ্নিপতি ইমনের সঙ্গে আমাদের কোনো বিরোধ নেই। ইমন একজন উচ্চশিক্ষিত ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। পিচ্চি হেলাল নিজের অপরাধ ঢাকতে এসব আবোল-তাবোল বলছেন।”