Published : 31 Aug 2026, 08:37 PM
একমাসের ব্যবধানে দেশে ‘মব’ এবং ‘নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতায়’ মৃত্যু বেড়েছে বলে দাবি করেছে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)।
একইসঙ্গে দেশে রাজনৈতিক সহিংসতা বাড়ার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।
সোমবার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো সংগঠনের মাসিক প্রতিবেদনে চলতি বছরের জুলাই এবং অগাস্টে বিভিন্ন সহিংসতায় হতাহতের বিশ্লেষণমূলক তথ্য তুলে ধরা হয়। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হলেও সংগঠনটি নিজস্ব প্রতিনিধির মাধ্যমে তা যাচাই করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে ‘মব’, রাজনৈতিক সহিংসতা, অজ্ঞাতনামা লাশ, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতা, বিশেষ অভিযানের নামে গ্রেপ্তার, ২০২৪ সালে সরকার পতনের পর মামলা, সাংবাদিকদের ওপর হামলা, সাইবার নিরাপত্তা আইন, সংখ্যালঘু নির্যাতন, সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মব সহিংসতায় জুলাই মাসে ৩১ জন নিহত হয়েছে। চলতি অগাস্টে এ সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩৫ জন। এই সময়ে ‘মব’-এ আহত হওয়ার সংখ্যা ৫৮ থেকে বেড়ে ৭৪ জনে দাঁড়িয়েছে। চুরি, বাকবিতণ্ডা, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, ধর্ষণের চেষ্টা, জমি সংক্রান্ত বিরোধে এসব মব হওয়ার কথা বলা হয় প্রতিবেদনে।
এমএসএফ বলছে, অগাস্টে ১১ জন চুরি অভিযোগে ‘মবের’ শিকার হয়ে প্রাণ হারান। এছাড়া বাকবিণ্ডতার জেরে ৬ জন, পরকীয়ার জেরে একজন, চাঁদাবাজি, জমি, কটুক্তি সংক্রান্ত ঘটনায় মবের শিকার হয়ে প্রাণ হারান ১০ জন।
অগাস্টে নারী ও শিশু সহিংসতার ৩২৭টি ঘটনা নথিভূক্ত করেছে এমএসএফ; যা জুলাই মাসে ছিল ৩০৬টি। অগাস্টে এই সহিংসতার বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাইয়ের চেয়ে অগাস্টে নারী ও শিশু হত্যার ঘটনা শতকরা ৭৫ ভাগ বেড়েছে। জুলাই মাসে যেখানে ৫২টি হত্যার ঘটনা ছিল, সেখানে অগাস্টে হয়েছে ৯১টি। অগাস্টে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে ৩৯টি, জুলাইয়ে যার সংখ্যা ২৮টি।
এছাড়া জুলাইয়ে ৮৫টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটলেও, অগাস্টে তা নেমে ৭০টি হয়েছে। তবে অগাস্টে আগের মাসের চেয়ে দলবেধে ধর্ষণের ঘটনা ৭টি থেকে বেড়ে হয়েছে ১২টি। ‘বলৎকার’ হয়েছে ৬টি, জুলাই মাসে যা ছিল ৫টি। যৌন নিপীড়নের ঘটনার কোনো পরিবর্তন হয়নি।
‘সংখ্যালঘু নির্যাতন’ বিষয়ে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, অগাস্টে ফরিদপুর এবং চট্টগ্রামে ২টি প্রতিমা ভাংচুর হয়েছে। জুলাইয়ে এ ধরনের ঘটনা ছিল ১টি। অগাস্টে ‘হিন্দু নির্যাতনের’ ঘটনা ঘটেছে ২২টি; জুলাই মাসে ছিল মাত্র ৫টি।
রাজনৈতিক সহিংসতার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে। সেখানে বিএনপি জামায়াত কোন্দলে অগাস্টে ৫ জন নিহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়। জুলাইতে রাজনৈতিক সহিংসতায় ৭ জন নিহত হয়েছিল। আবার অজ্ঞাতনামা হামলায় অগাস্টে ৩ বিএনপি কর্মী এবং আওয়ামী লীগের এক নেতা নিহত হয়েছেন। জুলাইয়ে এ সংখ্যা ছিল ৭ জন। অগাস্ট মাসে বিএনপির ২৩ জন বিভিন্ন ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হন; যা জুলাইয়ে ছিল ২১ জনে।
রাজনৈতিক এসব সংহিংস ঘটনার বিষয়ে প্রতিবেদনের আরেক কলামে বলা হয়েছে, বিএনপি, এনসিপি, জামায়াত, আওয়ামী লীগের আন্তঃদলীয় সংঘর্ষে অগাস্টে ২৬৭ জন আহত হয়েছেন; যা গত জুলাই মাসে ছিল ৯৫ জন।
প্রতিবেদনে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা বিষয়ে বলা হয়েছে, নির্যাতন-হামলা হয়েছে অগাস্টে ৩৭টি, জুলাইয়ে যা ছিল ৩৬টি। আবার আইনি হয়রানি এক মাসের ব্যবধানে ৪টি থেকে অগাস্টে একটিতে নেমে এসেছে।
এমএসএফের দাবি, অগাস্টে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে একটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, আগের মাসে ২টি ছিল। কারা হেফাজতে মৃত্যুও কমে ৯ থেকে ৫ হয়েছে।
নদী, সড়ক, রেললাইন, ফসলি জমিতে পড়ে থাকা অজ্ঞাত লাশের সংখ্যা জুলাই থেকে অগাস্টে এসে বেড়ে ৫৬ থেকে ৭১টি হয়েছে।
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়েও প্রতিবেদন করেছে এমএসএফ। যেখানে গত জুলাইয়ে যেখানে পুশইনের চেষ্টা ছিল ১০০টি; সেখানে অগাস্টে হয়েছে ১৫টি। সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে এবং মাইন বিস্ফোরণে ৩ জন নিহত হওয়ার তথ্য দিয়েছে এমএসএফ। জুলাই মাসে যা ছিল ১টি।
একমাসের ব্যবধানে বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ৫ হাজার ১৯৬ থেকে ৫ হাজার ৬১৮ জন হয়েছে তথ্য দিয়ে সংগঠনটি বলছে, অধিকাংশই গ্রেপ্তার হয়েছে মাদক সংক্রান্ত।