১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

সাগরে লঘুচাপ, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সংকেত

লঘুচাপটি সৃষ্টি হয়েছে উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ-উত্তর উড়িষ্যা উপকূলীয় এলাকায়।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 29 Aug 2026, 03:29 PM

Updated : 16 Sep 2026, 01:01 PM

উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় একটি লঘুচাপের সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় দেশের চার সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়া সম্পর্কিত বিশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, লঘুচাপটি সৃষ্টি হয়েছে উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ-উত্তর উড়িষ্যা উপকূলীয় এলাকায়।

এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। এর প্রভাবে সমুদ্র বন্দরগুলো, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার উপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

তাই চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

সেই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির শনিবার দুপুরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এটি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে সরে গেলে সেটি স্থলভাগের উপর উঠে যাবে। যদি তারপরেও সে ঘনীভূত হয়, তো ওর প্রভাব আমাদের হয়ত দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের দিকে কিছুটা থাকবে। এর ম্যাক্সিমাম প্রভাব থাকবে ভারতে।”

তিনি বলেন, “যেহেতু আমাদের উত্তর-পশ্চিএম বঙ্গোপসাগরে আছে, সেজন্য আমরা নৌকা এবং ট্রলারসমূহকে উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে থাকতে বলছি।

“লঘুচাপ যদি ইনটেনসিফাইও করে, সেটা উঠে ল্যান্ডের উপর হবে তো। হয়ত দেখা গেল ল্যান্ড ডিপ্রেশন (স্থল নিম্নচাপ) বা এরকম কিছু হবে। ওটার প্রভাব দেখা যাবে যে আমাদের সাগরে খুব বেশি পড়বে না।”

আবহাওয়া অধিদপ্তরের শনিবার সকালের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।

মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের উপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে।

শনিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘন্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে। এই সময়ে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল নীলফামারীর ডিমলায়; ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি। আর, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল সিলেটে; ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এই সময়ে দেশের সর্বোচ্চ ৫৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে সিলেটের শ্রীমঙ্গলে।

এছাড়া পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে ২৯, সাতক্ষীরায় ২৬, পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ২৫, তাড়াশে ২৩ এবং রাজধানী ঢাকায় ২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত নথিবদ্ধ করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।