১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সমুদ্র নিরাপত্তায় ‘সমন্বিত উদ্যোগ’ কোস্টগার্ড ও নৌপরিবহন অধিদপ্তরের, এমওইউ সই

সমঝোতার আওতায় দুটি সংস্থা আইওএমের বিভিন্ন বাধ্যবাধকতা ও কনভেনশন বাস্তবায়নে কাজ করবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 18 Aug 2026, 05:40 PM

Updated : 16 Sep 2026, 05:11 PM

দেশের সমুদ্র এলাকার নিরাপত্তা জোরদার, পরিবেশ রক্ষা এবং জরুরি উদ্ধার তৎপরতায় ‘কার্যকর সমন্বিত উদ্যোগকে’ আনুষ্ঠানিক রূপ দিতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে।

মঙ্গলবার ঢাকার আগারগাঁওয়ে কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরে বাহিনীর মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল জিয়াউল হক এবং নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর শফিউল বারী এ স্মারকে সই করেন।

নৌপরিবহন অধিদপ্তর দেশের ‘মেরিটাইম সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ হিসেবে নীতি নির্ধারণ, জাহাজ ও সমুদ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দূষণ প্রতিরোধের দায়িত্বে রয়েছে।

অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে সমুদ্রে সরেজমিনে অভিযান ও আইনি পদক্ষেপ নেয় কোস্ট গার্ড।

এমওইউ সই উপলক্ষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসে কমডোর শফিউল বারী বলেন, “ভিন্ন ভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত সংস্থা দুটির কাজের ধরন আলাদা হলেও সমুদ্র সুরক্ষা ও উদ্ধারকাজে সমন্বয়ের প্রয়োজন থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

“সমঝোতা স্মারকটি মূলত সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সামুদ্রিক পরিবেশ সুরক্ষা এবং সামুদ্রিক অনুসন্ধান ও উদ্ধার (এসএআর) কার্যক্রমে পারস্পরিক সহযোগিতার একটি কাঠামো প্রদান করবে।”

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, স্বাক্ষরিত সমঝোতার আওতায় দুটি সংস্থা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) বিভিন্ন বাধ্যবাধকতা যেমন- সোলাস, মারপোল, আইএসপিএস কোডও এসএআর কনভেনশন বাস্তবায়নে যৌথভাবে কাজ করবে।

এই সমঝোতার ফলে দুই সংস্থার মধ্যে দ্রুত তথ্য ও প্রযুক্তি বিনিময়, সামুদ্রিক দূষণ রোধে যৌথ অভিযান, উদ্ধার তৎপরতা, নিয়মিত মহড়া এবং কর্মীদের যৌথ প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

নৌপরিবহন অধিদপ্তরের প্রশাসনিক ও নিয়ন্ত্রক দিক এবং কোস্ট গার্ডের মাঠপর্যায়ের আইন প্রয়োগ সক্ষমতার একত্রীকরণ দেশের সামুদ্রিক সীমান্ত রক্ষা, নৌ দুর্ঘটনা রোধ এবং আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করে উভয়পক্ষ।

এক প্রশ্নের জবাবে কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক জিয়াউল হক বলেন, “এটা (এমওইউ) ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও) পরামর্শ ছিল। তারা ২০১৭ সালে একটা অডিট করে এটার ব্যাপারে একটা অবজারভেশন দিয়েছিল যে, বাংলাদেশের নৌ বহন অধিদপ্তরের সঙ্গে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা যারা আছে তাদের সমঝোতা থাকা দরকার।”

সমুদ্রকে ব্যবহারের জন্য বা সমুদ্র সুরক্ষার জন্য সংস্থাটির যেসব নিয়ম-নীতি বা বাধ্যবাধকতা রয়েছে সেটার নিয়ন্ত্রণের জন্য এই সমঝোতা প্রয়োজন বলে জানান তিনি।