“আমরা যেকোনো দেশের সংখ্যালঘুদের প্রতি সহিংসতার নিন্দা জানাই।”
Published : 20 Mar 2025, 09:37 PM
বাংলাদেশে মানুষের নিরাপত্তায় অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া ‘পদক্ষেপকে’ সাধুবাদ জানানোর পাশাপাশি সংখ্যালঘু ‘নির্যাতনের’ নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর।
বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নে মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস এ প্রতিক্রিয়া তুলে ধরেন।
বাংলাদেশে ‘ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতনের’ ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের ‘উদ্বেগের একটা বড় জায়গাজুড়ে’ রয়েছে বলে সম্প্রতি মন্তব্য করেন দেশটির গোয়েন্দা প্রধান তুলসী গ্যাবার্ড।
গত সোমবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ওয়ার্ল্ডকে তিনি বলেন, “হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর দীর্ঘদিনের দুভার্গ্যজনক নির্যাতন, হত্যা ও নিপীড়নের ঘটনা মার্কিন সরকার এবং ডনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের একটা বড় উদ্বেগের জায়গা।”
গ্যাবার্ডের এসব মন্তব্য তুলে ধরে বুধবারের ব্রিফিংয়ে সাংবাদিক দস্তগীর জাহাঙ্গীর বলেন, “বাংলাদেশে ইসলামী উগ্রবাদের হুমকি ও খিলাফত প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার বিষয়ে গ্যাবার্ড সতর্ক করেছেন।
“যদিও তিনি অন্তর্বর্তী সরকারকে সরাসরি অভিযুক্ত করেননি। মুহাম্মদ ইউনূসও এটাকে মিথ্যা হিসাবে অভিহিত করেছেন। অবশ্য গতকালই (মঙ্গলবার) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে খিলাফতের সমর্থনে বিশাল একটা সমাবেশ হয়েছে।”
এরপর একটি ছবি দেখিয়ে ওই সাংবাদিক বলেন, “চলমান উদ্বেগ সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্র কি ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ভাবছে?”
তখন মুখপাত্র ব্রুস বলেন, “আমরা যেকোনো দেশে সংখ্যালঘুদের প্রতি যেকোনো সহিংসতা বা অসহিষ্ণুতার নিন্দা জানাই।
“বাংলাদেশের মানুষের নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া পদক্ষেপকে সাধুবাদও জানাই আমরা।”
এনডিটিভি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গ্যাবার্ড বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নতুন মন্ত্রিসভার সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের আলোচনা কেবল শুরু হয়েছে। কিন্তু এটি এখনও উদ্বেগের মূল একটা জায়গা হিসেবে রয়ে গেছে।”
গ্যাবার্ডের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ‘গভীর উদ্বেগ ও হতাশা’ প্রকাশ করে সোমবার রাতেই বিবৃতি দেয় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়।
তাতে বলা হয়, “মার্কিন গোয়েন্দা প্রধানের এমন মন্তব্যের পেছনে কোনো তথ্যপ্রমাণ কিংবা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই। তারা এক তুলিতে পুরো জাতিকে অযৌক্তিকভাবে চিত্রিত করেছে।
“বিশ্বের অনেক দেশের মত বাংলাদেশও চরমপন্থার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে। কিন্তু আইন প্রয়োগ, সামাজিক সংস্কার ও সন্ত্রাসবিরোধী অন্যান্য প্রচেষ্টার মাধ্যমে এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অংশীদারত্বের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে এ বিষয়ে কাজ করছে।”
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় বলেছে, ‘‘আমরা গভীর উদ্বেগ ও দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি, তিনি (তুলসী গ্যাবার্ড) বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিপীড়ন এবং দেশে ইসলামিক সন্ত্রাসীদের হুমকি সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, যা ইসলামিক খিলাফত প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য থেকে উদ্ভূত বলে তুলে ধরেছেন। এ মন্তব্য সঠিক নয় এবং বাংলাদেশের সুনাম ও ভাবমূর্তির জন্য বিভ্রান্তিকর এবং ক্ষতিকর।”