‘সংঘাতহীন সমাজের স্বপ্নে সন্জীদার অবলম্বন ছিল সংগীত’
"সন্জীদা খাতুন চেয়েছেন, কী করে ধর্মবিশ্বাস অক্ষুণ্ণ রেখে জাতিপরিচয়ে ধন্য হয়ে একটা সমাজ গড়া যায়,” বলেন সারওয়ার আলী।
সংগীতকে অবলম্বন করে 'একটি উদার ও সংঘাতহীন সমাজ গড়ার জন্য' সন্জীদা খাতুন আজন্ম নিজেকে নিবেদিত রেখেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানটের সভাপতি সারওয়ার আলী।
তিনি বলেছেন, "ঐতিহাসিকভাবে এই উপমহাদেশে, বিশেষ করে বাংলাদেশে আত্মপরিচয়ের যে গভীর সংকট, তার ভিত্তি হচ্ছে ধর্মবিশ্বাস আর আমাদের জাতিপরিচয়ের মধ্যকার দ্বন্দ্ব। এই বিভাজন কমবেশি সব দেশের মানুষের মধ্যে থাকলেও, আমাদের এই অঞ্চলে এটি একটি সাংঘর্ষিক ও সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। কখনো একটি প্রাধান্য পায়, কখনো অপরটি।
"সন্জীদা খাতুন বছরের পর বছর ধরে প্রয়াসী হয়েছেন কী করে ধর্মবিশ্বাসকে অক্ষুণ্ণ রেখে জাতিপরিচয়ে ধন্য হয়ে এদেশে একটি উদার ও সংঘাতহীন সমাজ গড়া যায়। এক্ষেত্রে তাঁর অবলম্বন ছিল স্বাভাবিকভাবেই সংগীত। কারণ লালন থেকে শুরু করে রবীন্দ্রনাথ, নজরুল থেকে শাহ আব্দুল করিম—সকলে তো এমন সমাজেরই প্রেরণা দিয়েছেন।"
শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকার ছায়ানট সংস্কৃতি-ভবন মিলনায়তনে সন্জীদা খাতুনকে নিবেদন করে বসন্ত উৎসব আয়োজন করে ছায়ানট।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পরিবেশিত হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সমবেত নৃত্যগীতি ‘আমার বনে বনে’।
অনুষ্ঠানে সমবেত কণ্ঠে পরিবেশিত হয় কাজী নজরুল ইসলামের ‘দোলা লাগিল’ ও ‘বসন্ত এলো এলো এলো রে’। এছাড়া ইফফাত আরা দেওয়ান গেয়ে শোনান ‘নয়ন মেলে দেখি, আমায়’।
অনুষ্ঠানে আরও ছিল নৃত্যগীতি ‘সুন্দর’ এবং সমাপনীতে পরিবেশিত হয় জাতীয় সংগীত।
বাদ্যযন্ত্রে সঙ্গত দেন ফিরোজ খান (সেতার), প্রদীপ কুমার রায় (মন্দিরা), মৃত্যুঞ্জয় মণ্ডল ও সুবীর ঘোষ (তবলা), রবিন চৌধুরী (কিবোর্ড), মামুনুর রশিদ (বাঁশি) এবং আশিকুল ইসলাম আবির (এসরাজ)।
