Published : 03 Aug 2026, 11:04 AM
ভাঙচুর, হামলা ও সরকারি কাজে বাধার অভিযোগে করা পৃথক দুই মামলায় হাই কোর্টে জামিন পেয়েছেন সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী।
তবে তার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা বিচারাধীন থাকায় আপাতত তিনি কারামুক্তি পাচ্ছেন না বলে তথ্য দিয়েছেন আইনজীবীরা।
রোববার বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চ জামিন প্রশ্নে জারি করা রুল যথাযথ (অ্যাবসোলিউট) ঘোষণা করে এ আদেশ দেন।
আদালতে চিন্ময়ের পক্ষে আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দা সাজিয়া শারমিন শুনানি করেন।
আদেশের পর চিন্ময় দাসের আইনজীবী অপূর্ব বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, চিন্ময়ের বিরুদ্ধে মোট ছয়টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার বিচার ট্রাইব্যুনালে চলছে। রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় হাই কোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত রয়েছে। বাকি চার মামলার মধ্যে দুটি মামলায় রোববার হাই কোর্ট তাকে জামিন দিয়েছেন।
“জামিন পাওয়া দুটি মামলার একটি ভাঙচুর ও বিস্ফোরক আইনে এবং অন্যটি ভাঙচুর ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা। এ দুটি মামলায় ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর হাই কোর্ট জামিন প্রশ্নে রুল জারি করেছিলেন। গত ২৬ জুলাই রুলের ওপর শুনানি শেষে আদালত রায়ের জন্য এ দিন নির্ধারণ করেন।”
চিন্ময় দাসের বাকি মামলাগুলোর বিষয়ে অপূর্ব বলেন, বর্তমানে ছয়টি মামলার মধ্যে পাঁচটি উচ্চ আদালতে এবং একটি নিম্ন আদালতে বিচারাধীন। উচ্চ আদালতে থাকা পাঁচটি মামলার মধ্যে চারটি একই বেঞ্চে রয়েছে। এর মধ্যে দুটি মামলায় জামিন দেওয়া হয়েছে। বাকি দুটি মামলার রুল শুনানি আগামী ১৬ অগাস্ট একই বেঞ্চে হবে।
তিনি বলেন, উচ্চ আদালতে বিচারাধীন অপর একটি মামলায় অন্য একটি বেঞ্চ রুল খারিজ করায় হাই কোর্ট জামিন দেয়নি। ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের অনুমতি (লিভ) চেয়ে আবেদন করা হয়েছে, যা বর্তমানে বিচারাধীন।
সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ কারাগারে আটক আছেন ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর থেকে।
তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ার শুরু হয় জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার মাধ্যমে। ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় ১৯ জনকে আসামি করে মামলাটি করেছিলেন ওই সময়ে নগরের চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান।
ওই মামলায় ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর ঢাকা থেকে চিন্ময় দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন চট্টগ্রামের আদালতে হাজির করা হলে তার জামিন আবেদন নাকচ করা হয়। এ সময় তার অনুসারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষের মধ্যে আদালত-সংলগ্ন এলাকায় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে।
ওই ঘটনায় আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম দিয়ে হত্যা মামলা করেন। পরে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে ওই মামলায়ও চিন্ময় দাসকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেয় আদালত।
এছাড়া হত্যাচেষ্টা, হামলা, সরকারি কাজে বাধা, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় পুলিশের করা তিনটি এবং আলিফের ভাইয়ের করা একটি মামলাসহ আরও কয়েকটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
চিন্ময়সহ সব আসামির বিচার শুরুর আদেশ
ভাংচুর: চিন্ময় দাসকে জেল গেইটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি