১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ডিএজি-এএজি নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে বিক্ষোভ

“দলের জন্য দীর্ঘদিন কাজ করা আইনজীবীরা এবারও বঞ্চিত হয়েছেন।”

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 02 Aug 2026, 04:54 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:46 PM

নতুন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) নিয়োগে ‘অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের’ অভিযোগ তুলে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের একাংশ।

রোববার বিক্ষোভ শেষে আয়োজিত সমাবেশ থেকে সাম্প্রতিক নিয়োগ বাতিল করে ‘যোগ্য এবং আন্দোলন-সংগ্রামে সম্পৃক্ত’ আইনজীবীদের নিয়োগের দাবি জানানো হয়।

সমাবেশে সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আশিকুজ্জামান নজরুল অভিযোগ করেন, “সাম্প্রতিক নিয়োগে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে।”

তার ভাষ্য, “নিয়োগপ্রাপ্তদের অনেকেই বিএনপি বা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না।”

এই নিয়োগ কীভাবে হয়েছে, সে বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে জবাব চান তিনি।

আশিকুজ্জামান নজরুল বলেন, “দলের জন্য দীর্ঘদিন কাজ করা আইনজীবীরা এবারও বঞ্চিত হয়েছেন।”

বাদ পড়া ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মাসুদ রানা অভিযোগ করে বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে ‘প্রশ্ন’ রয়েছে।

“ওয়ান-ইলেভেনের সময় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজলের ভূমিকা নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।”

অন্যদের মধ্যে আইনজীবী আকতার হোসেন, শরীফ ইউ আহমেদ, আইয়ূব আলী আশরাফী, মো. ইসা, এবিএম ইব্রাহীম খলিল, আনিসুর রহমান খান, জহিরুল ইসলাম সুমন ও আনোয়ারা শিখা সমাবেশে বক্তব্য দেন।

আগের সব নিয়োগ বাতিল করে বৃহস্পতিবার নতুন করে ৮৬ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ১৭৯ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর দুই দিন ছুটি শেষে অফিস খোলার দিন অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের সামনে এই বিক্ষোভ হল।

বিক্ষোভকারী আইনজীবীদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "আইন কর্মকর্তা নিয়োগে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগের সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ থাকলে তা তদন্ত হওয়া উচিত। তবে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে একটি প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করা ঠিক নয়।"

তিনি বলেন, "আমি নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ নই; আমিও একজন নিয়োজিত ব্যক্তি। কেউ যদি অভিযোগ করে থাকেন, সেটি প্রমাণ করার দায়িত্বও তার। অভিযোগটি গুরুতর। সুনির্দিষ্টভাবে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তদন্ত হওয়া উচিত এবং প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। শুধুমাত্র খামাকা অভিযোগ তুলে একটি সুন্দর প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার কোনো অর্থ হয় না।"

বিক্ষোভ ও নিয়োগবঞ্চিতদের ক্ষোভের প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, "আগের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ৩৩৭ জন আইন কর্মকর্তা নিয়োজিত ছিলেন। বর্তমান সরকার প্রয়োজন বিবেচনায় সেই সংখ্যা কমিয়েছে। ফলে অনেকেই পুনর্নিয়োগ পাননি এবং সেখান থেকেই অসন্তোষ তৈরি হয়ে থাকতে পারে।"

তিনি বলেন, "স্বাভাবিকভাবেই অনেকের মধ্যে প্রত্যাশার ঘাটতি বা কিছুটা ক্ষোভ কাজ করতে পারে। আমার মনে হয়, সেই ক্ষোভের জায়গা থেকেই অনেকে এই ধরনের অভিযোগ তুলছেন।"

নিয়োগের মানদণ্ড সম্পর্কে রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, "আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রয়োজনীয় সংখ্যক আইন কর্মকর্তা নিয়োগ দেন। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হওয়ার জন্য হাই কোর্ট বিভাগের বিচারপতি হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হয় এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হওয়ার জন্য হাই কোর্টে অন্তত পাঁচ বছরের আইন পেশার অভিজ্ঞতা প্রয়োজন।"

তিনি বলেন, "সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলদের প্রায় ৮০ শতাংশই আগের পদে নিয়োজিতদের মধ্য থেকে রাখা হয়েছে এবং নতুন কিছু যুক্ত করা হয়েছে। নিয়োগের ক্ষেত্রে পূর্বের কর্মকর্তাদের কর্মদক্ষতা, স্পৃহা এবং সরকারের অন্যান্য পর্যবেক্ষণ পর্যালোচনা করেই হয়ত রাষ্ট্রপতি এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।"

যোগাযোগ করা হলে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি জয়নুল আবেদীন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগের প্রক্রিয়া পরিচালিত হয় অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় ও আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে। ফোরামের সভাপতি হিসেবে তিনি এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নন।

আইনজীবীদের আন্দোলনের বিষয়ে তিনি বলেন, নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য কেউ আন্দোলন করলে সেখানে তিনি বাধা দেবেন না। অভিযোগ প্রমাণের দায়িত্ব অভিযোগকারীদের, আর অভিযোগ খণ্ডনের দায়িত্ব—যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তাদের।

জয়নুল আবেদীন বলেন, তার কাছেও কয়েকজন আইনজীবী অভিযোগ করেছেন যে, নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে এমন ব্যক্তিও রয়েছেন, যারা অতীতে ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের’ সহযোগী ছিলেন।

পুরনো খবর

অ্যাটর্নি জেনারেল দপ্তরে নতুন ৮৬ ডেপুটি ও ১৭৯ সহকারী, আগের সবাই বাদ