১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সাঈদীর ফাঁসির রায়ে পিরোজপুরে উল্লাস

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়ে উল্লাসে ফেটে পড়ে তার নিজ জেলা পিরোজপুরের লোকজন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

এস এম পারভেজ, প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Feb 2013, 10:53 AM

Updated : 23 Aug 2022, 10:17 AM

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই  জেলা শহর ও উপজেলার বিভিন্ন স্থানে জাতীয় পতাকা আর রাজাকারের ফাঁসি চাই লেখা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে  রায় শোনার জন্য অপেক্ষা করছিলেন লোকজন।

দুপুরে রায় ঘোষণার পর পরই ‘জয় বাংলা’ ধ্বনিতে উল্লাসে ফেটে পড়ে  ছাত্র-জনতা। উল্লসিত জনতা মিছিল নিয়ে শহর প্রদক্ষিণ করে। পরে সমবেতদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।

রায়ে উল্লাস করতে দেখা যায় সাঈদীর গ্রামের বাড়ি জিয়ানগর উপজেলার সাউদখালী গ্রামের বাসিন্দাদেরও। অবশ্য অনেক আগেই সাঈদীর আত্মীয়-স্বজনরা এ গ্রাম ছেড়ে চলে যান। সাঈদীর নিজের বাড়িও তালাবদ্ধ।

একাত্তরে হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, ধর্মান্তরিত করার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার দায়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে সাঈদীর মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একাত্তরের পিরোজপুরে ‘দেইল্যা রাজাকার’ নামে পরিচিত ছিলেন সাঈদী । তার বিরুদ্ধে আনা ২০টি অভিযোগের মধ্যে আটটি প্রমাণিত হয়েছে, যার মধ্যে দুটি হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।

সাঈদীর মামলার বাদী মুক্তিযোদ্ধা মাহাবুবুল আলম রায়ের খবর শুনে আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, “৪২ বছর পর হলেও বর্তমান সরকারের সময় তাদের নির্বাচনী ওয়াদা রক্ষা করেছেন। আর এজন্য শহীদদের পরিবারসহ  ক্ষতিগ্রস্ত ও নির্যাতিতরা এখন শান্তিতে ঘুমাতে পারবেন।”

তিনি বলেন, এই রায় মুক্তিযুদ্ধের জয়, বাঙালি জাতির জয়, সাধারণ মানুষের জয়। 

মামলার সাক্ষী মানিক পশারী বলেন, “মৃত্যুর আগে সাঈদীর বিচার দেখে যেতে পারলাম, এখন মরে গেলেও শান্তি পাব।”

পরিবারের নিরাপত্তায় প্রশাসনের সহায়তা কামনা করেন মানিক পশারী।

মামলার আরেক সাক্ষী মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমীন নবীন বলেন, “এই রায়ে আমি যথার্থ বিচার পেয়েছি।  আটক সকল  যুদ্ধাপরাধীর সর্বোচ্চ সাজা চাই আমি।”