Published : 09 Nov 2020, 10:41 PM
সেই সঙ্গে গুলশান-২ এর ৯৫ নম্বর সড়কে জগলুলের বাড়িতে থাকা জিনিসপত্র কোনো পক্ষ বাইরে নিতে পারবে না বলেও আদেশ দিয়েছে আদালত।
পাশাপাশি জগলুলের দুই মেয়ের নিরাপত্তা অব্যাহত রাখতে গুলশান থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা জগলুল ওয়াহিদের দুই মেয়ে ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী আনজু কাপুর সম্পত্তির দাবি সংক্রান্ত কাগজপত্র দাখিল করার পর বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের ভার্চুয়াল বেঞ্চ সোমবার এ আদেশ দেয়।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক। জগলুল ওয়াহিদের দুই মেয়ের পক্ষে ছিলেন মনজিল মোরসেদ। আনজু কাপুরের পক্ষে শুনানি করেন মাসুদ আর সোবহান।
মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, মোস্তফা জগলুল ওয়াহিদের ব্যাংক হিসাবের লেনদেন বন্ধ রাখার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ম্যানেজারকে ব্যাংক হিসাবের তথ্য দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর জগলুল ওয়াহিদের ডেথ সার্টিফিকেটের অনুলিপি তিন দিনের মধ্যে মেয়েদের কাছে হস্তান্তর করতে বলা হয়েছে।
এছাড়া জগলুল ওয়াহিদের মৃত্যুর পর তার ব্যাংক হিসাবের লেনদেন ও বর্তমান ব্যাংক হিসাব হলফনামা করে আনজু কাপুরকে আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে।
মনজিল মোরসেদ বলেন, আনজু কাপুর বিদেশি নাগরিক হিসেবে হলফনামা দিতে পারেন কি না, সম্পত্তির মালিক হতে পারেন কি না, তাও হলফনামা করে জানাতে বলা হয়েছে।
বাবার বাড়িতে ঢুকতে ‘বাধা’ পাওয়ার অভিযোগ ফেরদৌস ওয়াহিদের দুই ভাতিজির
আদালতের আদেশের পর বাবার বাড়িতে উঠলেন ফেরদৌস ওয়াহিদের দুই ভাতিজি
ফেরদৌস ওয়াহিদের ভাতিজিদের সম্পত্তির কাগজপত্র দাখিলের নির্দেশ
বাবার মৃত্যুর পর তার বাড়িতে ঢুকতে দুই বোনের বাধা পাওয়ার খবর সংবাদ মাধ্যমে দেখে গত ২৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় হাই কোর্টের এই বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তাদের ঢোকার ব্যবস্থা করতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিল।
ওই বাসায় দুই বোনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুই বোন ও মোস্তফা জগলুল ওয়াহিদের দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে গত ৩ নভেম্বর হাই কোর্টে হাজির থাকতে গুলশান থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
উচ্চ আদালতের আদেশের পর রাতেই দুই ভাতিজিকে তাদের বাবার বাড়িতে তুলে দেয় গুলশান থানার পুলিশ এবং আদালতের নির্দেশমত গত ৩ নভেম্বর সকালে দুই বোন ও আনজু কাপুরকে নিয়ে আদালতে হাজির হন গুলশান থানার ওসি।
ওই দিন আদালত জগলুল ওয়াহিদের সম্পত্তি দাবির পক্ষে দুই মেয়ে ও দ্বিতীয় স্ত্রীকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আদালতে দাখিল করতে নির্দেশ দেয় হাই কোর্ট।
সোমবারের মধ্যে তা হলফনামা করে জমা দিতে বলা হয় এবং গুলশান থানার পুলিশকে দুই মেয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলে আদালত।
সেই সঙ্গে উভয় পক্ষের আত্মীয়-স্বজনরা যাতে গুলশান-২ এর ৯৫ নম্বর সড়কের ওই বাসায় বিনা বাধায় যাতায়াত করতে পারেন তাও নিশ্চিত করতে বলা হয়।
সে অনুযায়ী সোমবার দুই মেয়ে ও দ্বিতীয় স্ত্রীর দাখিল করা কাগজপত্র দেখে এই আদেশ দেয় উচ্চ আদালত।
গুলশান ২ নম্বরে ৯৫ নম্বর রোডের ৪ নম্বর হোল্ডিংয়ের ওই বাড়িতে এখন আনজু কাপুর থাকেন।
জগলুলের প্রথম স্ত্রীর দুই সন্তান মুশফিকা মোস্তফা ও মোবাশশারা মোস্তফার অভিযোগ, গত ১০ অক্টোবর তাদের বাবার মৃত্যুর পর ওই বাড়িতে ঢুকতে গিয়ে বাধা পান তারা।
মুশফিকা ঢাকায় তার মায়ের সঙ্গে থাকেন। আর মোবাশশারা স্বামীর সঙ্গে থাকেন যুক্তরাষ্ট্রে।
মুশফিকার ও মোবাশশারার মায়ের সঙ্গে ২০০৫ সালে বিচ্ছেদের পর ভারতীয় নাগরিক আনজু কাপুরকে বিয়ে করেন জগলুল।
ভারতের বেঙ্গালুরুতে জন্ম দেওয়া আনজু কাপুর প্রায় এক দশক ধরে ঢাকায় বসবাস করছেন। তিনি পেশায় একজন পোশাক ব্যবসায়ী, আরিয়ানা স্টাইলস লিমিটেড নামের একটি কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক। বলিউডের তরুণ চলচ্চিত্র অভিনেতা ও প্রযোজক ধীরাজ কাপুর তার ছোট ভাই।
আনজু পুলিশকে বলেছেন, জগলুল ওয়াহিদ তার সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশ তাকে উইল করে গেছেন।