Published : 12 Jul 2016, 12:31 AM
পুরানো খবর:
‘বাংলাদেশের চাহিদা মত সাহায্য করবে যুক্তরাষ্ট্র’দুটি জঙ্গি হামলার পর বাংলাদেশ সফরে আসা যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী বিসওয়াল গুলশানের হলি আর্টিজান ক্যাফে দেখে আসার পর সোমবার বিকালে গণভবনে যান।
সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলাকে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তা একসঙ্গে কাজ করার উপর গুরুত্ব দিয়ে বিসওয়াল যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কারিগরি সহায়তার প্রস্তাব দেন।
তখন প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় তথ্য আদান-প্রদান গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন বলে তার প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের জানান।
প্রেস সচিব বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তিনি নিজেই সন্ত্রাসের শিকার। অনেকবার সন্ত্রাস দ্বারা তিনি আক্রান্ত হয়েছেন।”
এর আগে ২০০৪ সালে একসঙ্গে বাংলাদেশের ৬৩ জেলায় একযোগে বোমা হামলার ঘটনাও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।
ইহসানুল করিম বলেন, “জঙ্গি, সন্ত্রাসবাদের প্রতি সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর মোকাবিলায় সরকার যেমন সতর্ক রয়েছে, নাগরিকরাও তেমনি সচেতন।”
সাম্প্রতিক দুটি হামলায় সমাজের উঁচু স্তরের পরিবারের সন্তানদের জড়িত থাকার তথ্য তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, “যারা এর সঙ্গে জড়িত, তারা বড় লোকের ছেলে-মেয়ে। এর উৎস খুঁজে বের করতে হবে। পেছনে কারা আছে তা বের করতে হবে।”“নিশা দেশাই বলেছেন, তারা (হামলাকারীরা) এটা করেছে অ্যাডভেঞ্চার থেকে (ইনডালজিনিং অ্যাডভেনচারিজম), ধর্মীয় উৎসাহ থেকে নয় (রিলিজিয়াস স্পিরিট),” বলেন ইহসানুল করিম।
গুলশান ও শোলাকিয়ায় নিহত অন্তত চার হামলাকারীর বেশ কিছু দিন আগে থেকে নিখোঁজ থাকার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রেস সচিব বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এরা নিজেরাই নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছে। মানবাধিকার কমিশনগুলো তখন ঢালাওভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকার দায়ী করে।যেসব ছেলেরা অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া পড়তে যাচ্ছে, তারাও নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছে।”
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গওহর রিজভী, মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটও ছিলেন।
এই সফরে বিসওয়াল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠকে সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে বাংলাদেশকে সহযোগিতার প্রস্তাব দেন।
বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিয়ে ভারতীয় হাই কমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলাসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকের সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি।