১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

দায় থেকে এখনো মুক্ত হইনি: সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা

“নারীরা অবশ্যই আবারও আসবে, যখনই দরকার হবে তারা আসবে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Aug 2026, 05:27 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:46 PM

বৈষম্যমুক্ত সমাজ গড়তে এখনই থেমে যাওয়ার সুযোগ নেই বলে মনে করেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।

তিনি বলেছেন, “আমাদের দায়বদ্ধতা এখনো আছে। আমরা এখনো কিন্তু মুক্ত হইনি আমাদের দায় থেকে। আমরা যদি পরিবর্তন আনতে না পারি, এটা আমাদের ব্যর্থতা হবে। কাজেই আমাদেরকে এখন থামলে চলবে না।”

শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের মায়েরা ও পরিবার: অশ্রুর শক্তিতে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছিলেন তিনি। ‘নারীগ্রন্থ প্রবর্তনা’ এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

জুলাইয়ে নিহতদের পরিবারের নারীদের উদ্দেশ্য করে ফরিদা আখতার বলেন, “আমরা বেঁচে আছি, আমাদের দায়িত্ব—সংগ্রামের মধ্যে থাকা। 

“আমরা কিন্তু মনে করি যে আমাদেরও কর্তব্য আছে, ফলে আমরা এই পরিবর্তনটা আমরা আনব। দুবছর হয়েছে তো কী হয়েছে? আমরা এখনও চাই যে কোনো অন্যায়... যেমন ওরা কী বলছিল? বৈষম্য থাকতে পারবে না।”

বৈষম্য দূর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “আমরা নারী-পুরুষ ভেদাভেদ করি না। জুলাইয়ে যারা নারীরা ছিল, তাদেরও কিন্তু অনেক অবহেলার স্বীকার হতে হয়েছে। 

“কিন্তু আমরা মনে করি না যে- নারীরা হারিয়ে গেছে, আমরা বলি যে নারীরা আছে। কারণ তারা অবশ্যই আবারও আসবে, যখনই দরকার হবে তারা আসবে।”

জুলাইয়ে নিহতদের স্মৃতি সংরক্ষণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা শহীদদেরকে যত বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারব, ততই আমাদের শহীদদের প্রতি আরও মর্যাদা দেওয়া হবে।”

অনুষ্ঠানে নিহতদের পরিবারের উদ্দেশে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেন, “এই যে আপনাদেরকে স্মরণ করে আজকে ‘উবিনীগ’ ডেকেছে, কালকে আরও একটি সংগঠন ডাকবে, আমিও ডাকব। আপনারা আসবেন, আপনাদের কষ্ট ব্যক্ত করবেন, আপনারা চলে যাবেন নিজ গৃহে।”

তিনি বলেন, “গত দু’বছর ধরে ভেবে ভেবে দেখুন তো, কত রকমভাবে কতবার আপনারা সম্মিলিত হয়েছেন, আমরা আপনারা সম্মিলিত হয়েছি। 

“রাষ্ট্রীয়ভাবে যেটুকু করতে পেরেছে আমাদের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, তা করেছে। বর্তমান সরকার কী করবে, সেটা দেখার বিষয়। তাদের কাছ থেকে আমাদের অনেক প্রত্যাশা আছে।”

নিহত পরিবারের সদস্যদের পুনর্বাসনের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, “এই যে আপনাদের সন্তানদের, এই পরিবারগুলোকে ঘুরে দাঁড় করাবার যে জায়গাটা দরকার, সরকার সেটা করবে এমনভাবে...আমরা ধৈর্যশীল, আমরা দেখছি। সমালোচনা করার সময় এখনও আসেনি।”

শারমীন এস মুরশিদ বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি যে সরকার এই আন্দোলনের ফসল, যে দলগুলো তার পায়ের নিচে মাটি পেয়েছে এই আন্দোলনের কারণে, এই বাচ্চাদের আত্মত্যাগের কারণে, তাদের জীবন দান করে দেওয়ার কারণে—তারা নিশ্চয়ই সেটা ভুলে যাবে না।”