গাজায় আন্তর্জাতিক বাহিনীতে ঢাকার থাকার ‘আগ্রহ’ শর্তসাপেক্ষে: প্রেস সচিব
“আইএসএফ অবশ্যই অস্থায়ী হতে হবে এবং জাতিসংঘের ম্যান্ডেটের অধীনে চলতে হবে,” বলেন তিনি।
গাজার স্থিতিশীলতা রক্ষায় যে আন্তর্জাতিক বাহিনী (আইএসএফ) গঠনের কথা বলা হচ্ছে, তাতে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার ‘আগ্রহ’ কয়েকটি বিষয়ের উপর নির্ভর করবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
আইএসএফে বাংলাদেশ থাকতে চায়— এমন খবরের ব্যাখ্যায় প্রেস সচিব এ অবস্থান তুলে ধরেন।
গত শনিবার প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে খলিলুর রহমান আইএসএফে যোগ দেওয়ার আগ্রহ তুলে ধরেন।
এ বিষয়ে সোমবার প্রেস সচিব বলেন, “আইএসএফ গঠনের বিষয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্তের গুরুত্ব বাংলাদেশ স্বীকার করে এবং এটাও উপলব্ধি করে যে, কিছু মুসলিম দেশ এই বাহিনীতে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করছে।”
গত ১৭ নভেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা গাজা শান্তি পরিকল্পনায় অনুমোদন দেয় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ।
এই পরিকল্পনায় ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে একটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী (আইএসএফ) মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে।
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, তারা নিজেদের ভূখণ্ডে বিদেশি বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত মেনে নেবে না।
২০ দফা প্রস্তাবে বলা হয়েছে, আইএসএফের অন্যতম দায়িত্ব হবে ‘অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হাতে থাকা অস্ত্র স্থায়ীভাবে অপসারণ’ করা, যার মধ্যে হামাসও রয়েছে।
শফিকুল আলম বলেন, আইএসএফে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ কয়েকটি নীতির ওপর নির্ভর করবে।
“এসব নীতির মধ্যে রয়েছে—আইএসএফ অবশ্যই অস্থায়ী হতে হবে এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ম্যান্ডেটের অধীনে পরিচালিত হতে হবে; গাজায় একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকতে হবে; সব ইসরায়েলি সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নিতে হবে এবং গাজার প্রশাসনিক দায়িত্ব দিতে হবে ফিলিস্তিনিদের হাতে।”
প্রেস সচিব বলেন, “বাংলাদেশ ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং ১৯৬৭ সালের সীমানার ভিত্তিতে আল কুদস আল শরীফকে রাজধানী করে একটি সার্বভৌম ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতি তার অটল সমর্থন অব্যাহত রাখবে।”
