Published : 18 Aug 2026, 04:14 PM
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক ও উপসহকারী পরিচালক পদে ২৪ চাকরিপ্রার্থীকে নিয়োগের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাই কোর্ট।
একই সঙ্গে এসব পদে রিট আবেদনকারীদের নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
আবেদনকারীদের মধ্যে ১০ জন সহকারী পরিচালক এবং ১৪ জন উপসহকারী পরিচালক পদের চাকরিপ্রত্যাশী।
তাদের দুটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. হামিদুর রহমানের হাই কোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এ রুল জারি করে।
দুদকের চেয়ারম্যান ও সচিব এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব। তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী মাকসুদুর রহমান ও মারুফ হাসান তমাল।
দুদকের পক্ষে সহকারী পরিচালক পদের রিটে শুনানি করেন আইনজীবী আশরাফুল ইসলাম এবং উপসহকারী পরিচালক পদের রিটে আইনজীবী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান খান।
সহকারী পরিচালক পদের জন্য দিলরুবা বেগমসহ ১০ জন এবং উপসহকারী পরিচালক পদের জন্য উমর ফারুকসহ ১৪ চাকরিপ্রার্থী গত ৯ অগাস্ট এই রিট আবেদন দুটি করেন।
রিট আবেদনে বলা হয়, ২০১৯ সালের ১৮ নভেম্বর দুদক সহকারী পরিচালক, উপসহকারী পরিচালক ও কোর্ট পরিদর্শক পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।
এর মধ্যে সহকারী পরিচালক পদে ১৩২টি এবং উপসহকারী পরিচালক পদে ১৪৭টি পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়।
সহকারী পরিচালক পদের রিটকারীরা নিয়োগ পরীক্ষার সব ধাপ পেরিয়ে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন। উপসহকারী পরিচালক পদের প্রার্থীরা মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন ২০২১ সালের এপ্রিলে।
রিটকারীদের অভিযোগ, পূর্ণাঙ্গ ফল প্রকাশের পর অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে নিয়োগের সুযোগ না দিয়ে বিজ্ঞাপিত পদগুলোতে নিয়োগ দেওয়া হয়।
সহকারী পরিচালক পদে ২০২২ সালের ২১ জুন এবং উপসহকারী পরিচালক পদে একই বছরের ২১ এপ্রিল নিয়োগ দেওয়া হয়।
তবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ পাওয়া প্রার্থীদের অনেকে অন্য চাকরিতে যোগ দেওয়ায় পরে এসব পদের কিছু শূন্য হয়। সেই শূন্য পদে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার বিধান থাকলেও তা অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয় রিট মামলায়।
রিটকারীদের বক্তব্য, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট পরিপত্র অনুযায়ী কোনো নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চাকরিতে যোগ না দিলে সৃষ্টি হওয়া শূন্য পদে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রার্থীদের অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
একই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির কোর্ট পরিদর্শক পদে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে নিয়োগ দেওয়া হলেও সহকারী পরিচালক ও উপসহকারী পরিচালক পদে সেই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে মামলায়।
এ অবস্থায় বিজ্ঞাপিত পদগুলোর মধ্যে পরবর্তীতে শূন্য হওয়া পদে রিটকারীদের মেধা ও যোগ্যতা অনুযায়ী নিয়োগের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
রিটকারীদের আইনজীবী ব্যারিস্টার হুমায়ন কবির পল্লব সাংবাদিকদের বলেন, “সুপ্রতিষ্ঠিত নিয়োগ প্রক্রিয়ার নিয়ম ভঙ্গ হওয়ায় রিট আবেদনকারীদের সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ন্যায়বিচারের পূর্ব শর্ত। এসব নিয়োগে ন্যায়বিচার লঙ্ঘিত হয়েছে।”