২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

ট্রেনের টিকেট কালোবাজারি: গ্রেপ্তার ৪

টিকেট কালোবাজারির অভিযোগে এর আগেও গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তারা।

ট্রেনের টিকেট কালোবাজারি: গ্রেপ্তার ৪

ট্রেনের টিকেট কালোবাজারি করার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 09 Feb 2023, 07:50 PM

Updated : 09 Feb 2023, 07:50 PM

রাজধানীর কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলস্টেশন থেকে ট্রেনের টিকেট কালোবাজারির অভিযোগ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। 

গ্রেপ্তার চারজন হলেন– উত্তম দাস (৩২), মো. ইলিয়াস (৫৯), মো. শাহ আলম (৩৪) ও মো. খোকন মিয়া (৫৫)। 

বৃহস্পতিবার দুপুরে টিকাটুলির র‌্যাব-৩ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বুধবার রাতে এক অভিযানে ওই চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেনেন্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, “তাদের কাছ থেকে ৪২টি ট্রেনের টিকেট পাওয়া যায়। এই কালোবাজারি চক্রটির হোতা উত্তম দাস। অন্য সদস্যরা মিলে রেলস্টেশনে লাইনে দাঁড়িয়ে এক একটি এনআইডি ব্যবহার করে টিকেট সংগ্রহ করে। 

“এছাড়া অনলাইনে বিভিন্ন পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও মোবাইল ফোন নম্বর ব্যবহার করেও তারা টিকেট সংগ্রহ করে থাকে। উত্তম দাসের নেতৃত্বে বাকিরা এক একটি ট্রেন ছাড়ার ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা আগে বেশি দামে টিকেট বিক্রির তৎপরতা শুরু করে। ট্রেন ছাড়ার সময় যত ঘনিয়ে আসে, তাদের কাছে থাকা কালোবাজারি টিকিটের দাম তত বাড়তে থাকে।” 

আরিফ মহিউদ্দিন জানান, “এই চক্রটি মূলত সোনার বাংলা, কালনী এক্সপ্রেস,  চট্টলা এক্সপ্রেস, তূর্ণা নিশিথা, পঞ্চগড় এক্সপ্রেস, সুন্দরবন এক্সপ্রেস, তিস্তা এক্সপ্রেস, মহানগর প্রভাতী, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস, ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ও পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকেট কালোবাজারি করে। 

“উত্তম দাস তার জেলা কুমিল্লার বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পরিচয় ব্যবহার করে এবং রেলস্টেশনে কর্মরত অসাধু একটি চক্রের যোগসাজসে ২০১৮ সালে টিকেট কালোবাজারি শুরু করে। এর আগে সে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে দুইবার গ্রেপ্তার হয়েছিল। জামিনে বের হয়ে আবার একই ধরনের কাজ শুরু করে।” 

লেফটেনেন্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন বলেন, “রেলস্টেশনে যে পরিমাণ টিকেট বরাদ্দ থাকে তার ৫০ শতাংশ বিক্রি হয় অনলাইনে। যার ফলে কাউন্টারে এসে অনেকে টিকেট না পেয়ে ফিরে যান। এই সুযোগটিই গ্রহণ করে টিকেট কালোবাজারি চক্রের সদস্যরা। 

“অনেক সময় তারা রিকশাওয়ালা, কুলি, দিনমজুরকে অল্প টাকার বিনিময়ে লাইনে দাঁড় করিয়ে তাদের মাধ্যমে টিকেট সংগ্রহ করে।” 

তিনি জানান, গ্রেপ্তার খোকন মিয়া ও শাহ আলমের নামে ৬টি মামলা রয়েছে। তারাও জামিনে বের হয়ে আবার টিকেট কালোবাজারিতে জড়িয়ে পরেছেন। গ্রেপ্তার ইলিয়াসের বিরুদ্ধে একটি মামলায় রয়েছে। তিনি গ্রেপ্তার হয়ে ১৭ দিন জেলও খেটেছেন। 

র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক জানান, ট্রেনের টিকেট কলোবাজারির অভিযোগে এর আগে তিন বারে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।