রিমান্ড শেষে কারাগারে মনসুর, রোজী ও জাহাঙ্গীর
তিনটি হত্যা মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড শেষে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
হত্যা মামলায় রিমান্ড শেষে সাবেক এমপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ, মাসুদা সিদ্দিক রোজী এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সাবেক সচিব মো. জাহাংগীর আলমকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে শনিবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের দুই বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর পৃথক পৃথক আদেশ দেন।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর কানাডা থেকে ঢাকায় বিমানবন্দরে নেমেই গ্রেপ্তার হন ডাকসুর সাবেক ভিপি ও আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান মনসুর।
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে গত বছরের ২৮ অক্টোবর ঢাকায় বিএনপির সমাবেশের দিনে সংঘর্ষে যুবদল নেতা শামীম মোল্লা নিহতের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।
ওই রিমান্ড শেষে শনিবার তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি নিয়ে ঢাকা মহানগর হাকিম মো. শরীফুর রহমান তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
অপরদিকে নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক মাসুদা সিদ্দিক রোজীর দুই দিনের রিমান্ড শেষে শনিবার তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি নিয়ে ঢাকার মহানগর হাকিম আরিফুর রহমান আদেশ দেন।
গণআন্দোলনের মধ্যে গত ৫ অগাস্ট ঢাকার মেরুল বাড্ডায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে গুলিতে মো. সিরাজুল বেপারী নিহতের মামলায় রোজীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সুলতান মনসুর ও রোজী ছাড়াও পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে শনিবার আদালতে হাজির করা হয় ইসি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সাবেক সচিব জাহাংগীর আলমকে। শুনানি নিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকার মহানগর হাকিম আরিফুর রহমান।
এসময় জাহাংগীরের আইনজীবী কারাগারে ডিভিশন ও চিকিৎসার জন্য আরও দুটি পৃথক আবেদন করলে কারাবিধি অনুসারে তাকে ডিভিশন ও যথাযথ চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারক।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্যে কিশোর আব্দুল মোতালিব নিহতের ঘটনায় ধানমন্ডি থানার মামলায় গত ১ অক্টোবর জাহাংগীরকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেদিনই তাকে আদালতে হাজির করলে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বিচারক তার পাঁচ দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
২০২২ সালের ২৭ অক্টোবর জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব থেকে পদোন্নতি দিয়ে ইসি সচিবালয়ের সচিব করা হয়েছিল তাকে। পরে জননিরাপত্তা বিভাগে ফেরানো হয়।
গত ১৪ অগাস্ট সচিব জাহাংগীরকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায় সরকার। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় তিনি নির্বাচন কমিশন সচিবের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
আরও পড়ুন-
