Published : 01 Jun 2026, 09:54 PM
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদের নির্বাচন হতে যাচ্ছে মঙ্গলবার; নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রার্থী পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমরা আশাবাদী। বাংলাদেশ অত্যন্ত শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী, এই নির্বাচনে অত্যন্ত ভালো অবস্থানে আমরা আছি। আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, উনার যেহেতু একটা বিশাল অভিজ্ঞতা আছে, উনার ক্যারিয়ার আছে জাতিসংঘে।
“সুতরাং আমরা অত্যন্ত আশাবাদী যে বাংলাদেশ জয়যুক্ত হবে এবং আমি মনে করি, অনেক নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে বাংলাদেশের জন্য; বাংলাদেশের মানুষের জন্য। এবং এটা একটা গর্বের মুহূর্ত হবে বাংলাদেশের জন্য।”
বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে ভোট শুরু হবে।
জাতিসংঘের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, আঞ্চলিকভাবে ঘুর্ণায়মান পদ্ধতিতে এবার এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে সভাপতি পেতে যাচ্ছে জাতিসংঘ।
মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এ নির্বাচনের জন্য তৎকালীন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনকে মনোনয়ন দিয়েছিল।
একইপদে ফিলিস্তিনের প্রার্থী থাকার কারণে বাংলাদেশ প্রার্থিতা স্থগিত রাখলেও প্রত্যাহার করেনি। এরপর ফিলিস্তিন প্রার্থিতা প্রত্যাহার হলে বাংলাদেশের প্রার্থিতা পুনর্জ্জীবিত হয়।
এর মধ্যে সরকার পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তীকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বদলে নতুন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলকে বাংলাদেশের প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
ভোটে খলিলুর রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে রয়েছেন সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দূত আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিস।
সদস্য দেশগুলোর ভোটে খলিলুর রহমান নির্বাচিত হলে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসনে দ্বিতীয়বারের মতো বসতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি।
৪০ বছর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন বাংলাদেশি রাজনীতিক হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী।
নিজের কর্মজীবনের বেশিরভাগ সময় জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থায় দায়িত্ব পালন করেছেন খলিলুর রহমান। জাতিসংঘে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মুখপাত্রের দায়িত্ব পালনের পর ৪১তম অধিবেশের সভাপতি হুমায়ুন রশিদ চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহযোগীর পদেও ছিলেন তিনি।
১৯৯১ সালে জেনিভায় জাতিসংঘ বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলনের (আঙ্কটাড) বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দেন খলিলুর রহমান। এরপর ২৫ বছর নিউ ইয়র্ক ও জেনিভায় জাতিসংঘের বিভিন্ন জ্যেষ্ঠ পদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি; ছিলেন জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রকাশনার প্রধান লেখক।
নির্বাচিত হলে কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকবেন খলিল?
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির পাশাপাশি নিজ দেশের সরকারি দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার নজির যেমন রয়েছে, তেমনি সভাপতি পদে পূর্ণকালীন দায়িত্ব পালনের উদাহরণও আছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হলে এই পদে পূর্ণকালীন দায়িত্ব পালনের প্রতিশ্রুতি ইতোমধ্যে দিয়েছেন খলিলুর রহমান।
ভোটের প্রচারের মধ্যে ১৩ মে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময় সেশনে তিনি বলেছিলেন, “নির্বাচিত হলে আমি সবার সভাপতি এবং পূর্ণকালীন সভাপতি হব। আমি জাতিসংঘের সনদ অবিচলভাবে সমুন্নত রাখব। আমি সব সদস্য রাষ্ট্রকে সম্পৃক্ত করব এবং বিশেষ করে ছোট প্রতিনিধিদলগুলোর প্রতি মনোযোগ দেব।
“আমি সভাপতির আচরণবিধি সম্পূর্ণরূপে মেনে সভাপতিত্ব পরিচালনা করব। আমি আমার ব্যক্তিগত মতামতকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে আমার কাজে বাধা হতে দেব না এবং মতপার্থক্য উপেক্ষা না করে ঐক্যের পথ খুঁজব।”
জাতিসংঘের প্রতি বিশ্ববাসীর আস্থা ফেরানোকে কেন্দ্রে রেখে ছয়টি স্তম্ভের উপর বৈশ্বিক সংস্থাটির কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করে তিনি বলেন, “আমি প্রথম দিন থেকেই আপনাদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনে সক্ষম, ইচ্ছুক এবং প্রস্তুত। আমি আপনাদের আস্থা ও সমর্থন কামনা করছি।”
নির্বাচিত হলে খলিলুর রহমান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বেও থাকবেন কিনা, সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, সেই সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানই নেবেন।
এ বিষয়ে এক প্রশ্নে সোমবার তিনি বলেন, “পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকবেন। এখানে কোনো নিয়ম নাই যে, উনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকতে পারবেন না।”
এর আগে সভাপতি পদের দায়িত্ব পালনের সময় হুমায়ুন রশিদ চৌধুরীর সরকারি দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার উদাহরণ টেনে করা আরেক প্রশ্নে তিনি বলেন, “এখানে কোনো বাধ্যবাতকতা নাই। এটা পুরোপুরি ব্যক্তিগত পছন্দ এবং প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত।”