০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

এনবিআর কর্মকর্তা ও পরিবারের সম্পদ বিবরণী ঘোষণা নিশ্চিতের সুপারিশ সংসদীয় কমিটির

কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নির্দিষ্ট সময়সীমা ধরে কাজ করার কথা বলেছে কমিটি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 04 Oct 2026, 10:03 PM

Updated : 04 Oct 2026, 10:03 PM

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর পাশাপাশি তাদের পরিবারের সদস্যদের সম্পদের বিবরণী ঘোষণা নিশ্চিত করতে সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকের কার্যবিবরণীতে এ সুপারিশের কথা রয়েছে।

কমিটির সুপারিশে বলা হয়েছে, এনবিআরের কর সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের হিসাব ও সম্পদ বিবরণী ঘোষণা নিশ্চিত করতে ‘দৃশ্যমান ও জবাবদিহিতামূলক উদ্যোগ’ নিতে হবে।

গত ২৩ অগাস্ট সংসদ ভবনে কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক হয়। কমিটির সভাপতি মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে ওই বৈঠকে সরকারের রাজস্ব আহরণ কার্যক্রম, কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে নেওয়া পদক্ষেপ এবং এনবিআরের সাংগঠনিক কাঠামো ও কর্মনীতি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।

রোববার কমিটির বৈঠকে ওই কার্যবিবরণী অনুমোদন পায়।

কার্যবিবরণী অনুযায়ী, দ্বিতীয় বৈঠকে কমিটির সদস্য জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এনবিআরের কর সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা-কর্মচারী, এনবিআর চেয়ারম্যানসহ তাদের পরিবারের সম্পদের হিসাব ও সম্পদ বিবরণী ঘোষণার ওপর গুরুত্ব দেন।

তার মতে, কর ফাঁকি রোধ এবং কর প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বিষয়টি নীতিগতভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। আলোচনা শেষে বিষয়টি কমিটির সুপারিশে স্থান পায়।

রাজস্ব বাড়াতে ডিজিটাল ব্যবস্থায় জোর

অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুশফিকুর রহমান দ্বিতীয় বৈঠকের পর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, “বড় রাজস্ব লক্ষ্য সামনে রেখে এনবিআরকে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে আয় বাড়ানোর পাশাপাশি ডিজিটাল ব্যবস্থা সম্প্রসারণে জোর দিতে বলা হয়েছে।

তিনি বলেছিলেন, “দেশের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে রাজস্ব সংগ্রহ বাড়াতে হবে। তা না হলে সরকারের ব্যয় নির্বাহে বাইরের উৎসের ওপর নির্ভরতা থাকবে। এনবিআরকে তাদের নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণে কাজ করতে হবে।”

ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে করদাতা ও এনবিআর কর্মকর্তাদের সরাসরি যোগাযোগ কমানোর উদ্যোগকেও ইতিবাচকভাবে দেখার কথা বলেছিলেন তিনি।

মুশফিকুর বলেছিলেন, অনলাইনে কর দেওয়া ও রিটার্ন জমার সুযোগ যত বাড়বে, করদাতাদের এনবিআর কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ তত কমবে। এতে সেবা সহজ হওয়ার পাশাপাশি দুর্নীতির সুযোগও কমবে।

কর-জিডিপি অনুপাত ৬.৮ শতাংশ

দ্বিতীয় বৈঠকে এনবিআরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের কর-জিডিপি অনুপাত ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০২৬ সালে এই অনুপাত ৮ দশমিক ৮ শতাংশ, মধ্যমেয়াদে ১০ শতাংশ এবং ২০৩৫ সালে ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ লক্ষ্য অর্জনে ‘রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন’ বা ‘থ্রি-আর’ কৌশল গ্রহণের কথাও বৈঠকে জানানো হয়।

কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ, কর আদায়ে সক্ষমতা বাড়ানো এবং পরিবর্তিত অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ও বাজেট পুনর্নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।

ব্যাংক-এনআইডি-ভূমির তথ্য যুক্ত করার সুপারিশ

করদাতা শনাক্ত এবং তাদের আয় ও সম্পদের তথ্য যাচাইয়ে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার তথ্য এক জায়গায় আনার সুপারিশও করেছে সংসদীয় কমিটি।

কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, ব্যাংক, জাতীয় পরিচয়পত্র-এনআইডি, ভূমি, বিআরটিএ ও সঞ্চয়পত্রসহ বিভিন্ন উৎসের তথ্য এপিআইয়ের মাধ্যমে এনবিআরের ডেটাবেইজের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।

এর মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে করদাতা শনাক্ত এবং তাদের আয় ও সম্পদের ‘প্রোফাইলিং’ চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে সমন্বিত ডেটাবেইজ তৈরি, জাতীয় তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে দেখা এবং অ্যান্ড-টু-অ্যান্ড অটোমেশনের মাধ্যমে করের আওতা বাড়াতে পদক্ষেপ নিতে বলেছে কমিটি।

কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নির্দিষ্ট সময়সীমা ধরে কাজ করার পাশাপাশি নিয়মিত করদাতারা যাতে হয়রানির শিকার না হন, সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে বলেছে কমিটি।