১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

বয়স্ক যাত্রীকে সেবা না দিয়ে সমালোচনার মুখে এমিরেটস এয়ারলাইন্স

“বিষয়টি খুব সাধারণ মনে হলেও একজন বয়স্ক-অসুস্থ নারীর জন্য এটা খুবই কঠিন,” বলেন ইশরাত।

বয়স্ক যাত্রীকে সেবা না দিয়ে সমালোচনার মুখে এমিরেটস এয়ারলাইন্স
এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ফেইসবুক থেকে সংগৃহীত ছবি।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 12 Jul 2025, 07:56 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:22 PM

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সত্তোরর্ধ্ব এক নারী যাত্রীকে ট্রানজিটের সময় হুইল চেয়ার না দেওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়েছে এমিরেটস এয়ারলাইন্স। 

এ নিয়ে ওই যাত্রীর মেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে যে পোস্ট দিয়েছেন তা শেয়ার করে এমিরেটসকে আরও সংবেদনশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নেটিজেনরা। 

সমালোচনার মুখে বিবৃতি দিয়ে এমিরেটস জানিয়েছে, ঘটনাটি তারা তদন্ত করছে।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ৭১ বছর বয়সী লায়লা হুসেইন ১০ জুলাই ঢাকা থেকে নিউইয়র্ক যাচ্ছিলেন এমিরেটসের একটি ফ্লাইটে। তার টিকেট করার সময় হুইল চেয়ারের প্রয়োজনীয়তার কথা জানানো হলেও তিনি দুবাই ও মিলান বিমানবন্দরে হুইল চেয়ার না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন বলে অভিযোগ তার মেয়ে ইশরাত জাহানের। 

যোগাযোগ করা হলে ইশরাত বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পরিবারের এক সদস্যের মৃত্যু হওয়ায় জরুরি প্রয়োজনে তাকে একাই ভ্রমণ করতে হচ্ছিল। টিকিট করার সময় আমি মায়ের জন্য হুইলচেয়ার রিকোয়ারমেন্ট দিয়েছিলাম। ঢাকা এয়ারপোর্টে তিনি হুইলচেয়ার পান। কিন্তু দুবাইতে ট্রানজিটের জন্য নামানো হলে তাকে আর হুইল চেয়ার দেওয়া হয়নি। 

“দুবাই এয়ারপোর্টে  এমিরেটসের একজন গ্রাউন্ড স্টাফের কাছে হুইল চেয়ার চাইলে তাকে বলা হয়, অল্প একটু হাঁটলেই পাবেন। এরপর দীর্ঘ পথ তাকে হাঁটতে হয় কানেক্টিং ফ্লাইটটি ধরার জন্য। তাকে হুইলচেয়ার দেওয়া হয়নি।”

তিনি বলেন, “বিষয়টি খুব সাধারণ মনে হলেও একজন বয়স্ক-অসুস্থ নারীর জন্য এটা খুবই কঠিন। আমরা পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন ছিলাম, কিন্তু এমিরেটসের কলসেন্টারে ফোন দিয়েও কোনো সহায়তা পাচ্ছিলাম না।

“এরপর ইতালির মিলান বিমানবন্দরে উড়োজাহাজটির দুই ঘণ্টার ট্রানজিটের সময় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। যেখানে সাধারণত নিউইয়র্কগামী যাত্রীদের বিমান থেকে নামতে হয় না, কিন্তু এদিন সব যাত্রীকে নামিয়ে আনা হয়। যেই টার্মিনালে তাদের নামিয়ে আনা হয় সেখানে বসার কোনো ব্যবস্থাই ছিল না। অসুস্থ শরীর ও দীর্ঘ ভ্রমণের ধকল নিয়েই আমার মা দুই ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হন। এক পর্যায়ে তিনি অসুস্থ বোধ করতে থাকেন।”

তার মায়ের ক্ষেত্রে এমিরেটসের গ্রাহক সেবা কেন্দ্রের সাড়া না পাওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ইশরাত বলেন, “তিনি যখন মিলানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভুগছেন তখন আমি এমিরেটসের কাস্টমার সার্ভিসে ফোন করি, যাদের কার্যালয় আমেরিকাতে। 

“সেই কাস্টমার সার্ভিসের নির্বাহী আমাকে কোনো প্রকার সাহায্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন, একজন অসুস্থ যাত্রীর প্রতি সংবেদনশীলতার যথেষ্ট অভাব ছিল তার মধ্যে।”

এরপর তিনি ফেইসবুকে পোস্ট দেন বলে জানান ইশরাত, যে পোস্টে তিনি এমিরেটসের সমালোচনা করে বলেছেন, “উচ্চমূল্যের টিকেট কিনে এমন বাজে যাত্রীসেবা কী আমাদের প্রাপ্য?” 

এটিকে সবচেয়ে খারাপ ভ্রমণ অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।

এ বিষয়ে এমিরেটসের ঢাকা কার্যালয়ের বক্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলে তারা একটি বিবৃতি শেয়ার করেছে, সেখানে এমিরেটসের মুখপাত্র বলেছেন, “আমরা মিলান মালপেনসা বিমানবন্দরে মোবিলিটি সহায়তা সংক্রান্ত একজন যাত্রীর অভিযোগ তদন্ত করছি। 

“বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে এবং তখনকার পরিস্থিতি বোঝার জন্য আমরা আমাদের বিমানবন্দর ও গ্রাউন্ড সার্ভিস পার্টনারদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছি।” 

বিবৃতিতে বলা হয়, এ বিষয়ে আমরা সরাসরি যাত্রীর কাছে প্রতিক্রিয়া জানাবো। আমরা আমাদের সকল যাত্রীকে সহজপ্রাপ্য এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সেবা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”