ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে ‘গোপনে’ ড্যাপ সংশোধন: আইপিডি
গত চার বছরে তিনটি ভিন্ন সরকার স্বার্থান্বেষী মহলের উদ্দেশ্য পূরণে শহরের বাসযোগ্যতা ও টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনাকে জলাঞ্জলি দিয়েছে বলছে সংস্থাটি।
রাজধানীর বাসযোগ্যতা ও পরিবেশ হুমকিতে ফেলে ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর স্বার্থে বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) সংশোধনের ‘বিতর্কিত গেজেট’ অবিলম্বে বাতিলের দাবি তুলেছে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)।
সংস্থাটি রোববার এক বিবৃতিতে এ দাবি তুলে বলছে, “কারিগরি মূল্যায়ন ও পেশাজীবীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ড্যাপ সংশোধন করা হয়েছে। এমনকি ড্যাপ প্রণয়নকারী সংস্থা রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষও (রাজউক) এ সংশোধনের বিষয়ে অবগত নয়।
বিবৃতিতে আইপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, “গত চার বছরে তিনটি ভিন্ন ভিন্ন সরকার স্বার্থান্বেষী মহলের উদ্দেশ্য পূরণে শহরের বাসযোগ্যতা ও টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনাকে জলাঞ্জলি দিয়েছে। যদি কোনো ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর দাবি বা প্রভাবের ভিত্তিতে নগর পরিকল্পনার বিধান পরিবর্তন করা হয়ে থাকে, তবে তা পরিকল্পনা প্রণয়নের পেশাগত পদ্ধতি, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি এবং জনস্বার্থ সংরক্ষণের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
“শিল্প ও আবাসন ব্যবসায়ীদের বাণিজ্যিক সুবিধা নিশ্চিত করতে নগরের পরিবেশগত সুরক্ষা, অবকাঠামোগত ধারণক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি বাসযোগ্যতাকে উপেক্ষা করা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
বুড়িগঙ্গার তীর, জুরাইন ও পোস্তগোলার মত পরিবেশগত বিপন্ন এলাকায় উন্মুক্ত স্থানে ভারী শিল্পকারখানা স্থাপনের অনুমোদনে উদ্বেগ জানিয়ে আইপিডি বলেছে, বন্যাপ্রবাহ এলাকা ও জলাশয়ে আবাসন প্রকল্পের সুযোগ বাড়ানো হলে ঢাকার জলাবদ্ধতা আরও বাড়বে।
পাশাপাশি অবকাঠামোগত সক্ষমতা যাচাই না করে বারবার ভবনের আয়তন বা ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর) বৃদ্ধি করা হলে পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে।
ড্যাপের সংশোধনী গেজেট পুরোপুরি বাতিলের দাবি তুলে আইপিডি বলেছে, ড্যাপের অতীত ও বর্তমান সংশোধনের পেছনে কোনো দুর্নীতি বা ব্যবসায়িক স্বার্থ আছে কি না, তা তদন্ত করে জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।
এছাড়া ভবিষ্যতে ড্যাপ সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম, পেশাগত পরামর্শ, কারিগরি মূল্যায়ন, পরিবেশগত প্রভাব বিশ্লেষণ ও জনস্বার্থ যাচাই বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।
বিশেষ শর্তে পূর্বাচল ও ঝিলমিল আবাসন প্রকল্পে ভবন নির্মাণে ফ্লোর এরিয়া রেশিও বা ফার এ ছাড় দিয়ে ঢাকা মহানগর এলাকার বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনায় (ড্যাপ) সংশোধন এনেছে সরকার।
গত বুধবার ২০২২-৩৫ মেয়াদের জন্য রাজউকের আওতাধীন ড্যাপের এ সংশোধনের গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।
নতুন সংশোধনীতে পূর্বাচল ও ঝিলমিল আবাসন প্রকল্পে ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর) বা ফার এ ছাড় দেওয়ার পাশাপাশি ড্যাপের আওতাধীন নির্দিষ্ট কিছু মৌজায় ‘ওপেন স্পেস’ থেকে ‘ভারি শিল্প’ এলাকায় পরিবর্তন এবং জলস্রোত ‘ওভারলে’ জোন সংক্রান্ত নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
