Published : 25 Nov 2025, 07:06 PM
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ভারগো গার্মেন্টের কর্মকর্তা সোহান শাহ হত্যা মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
তদন্ত কর্মকর্তার অন্তর্বতী প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মঙ্গলবার এ আদেশ দেন ঢাকার মহানগর হাকিম জামসেদ আলম।
বাণিজ্য উপদেষ্টার অব্যাহতি পাওয়ার তথ্য জানিয়েছেন ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান।
সাধারণত কোনো মামলার তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র বা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ। তবে গত ১০ জুলাই অধ্যাদেশ হওয়া সংশোধিত ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩ (ক) ধারায় তদন্ত চলাকালে অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আসামিকে অব্যাহতি দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
গত ২৪ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র্যাব-৩ এর এসআই মোস্তাফিজুর রহমান আদালতে অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন দিয়ে বশিরউদ্দীনের অব্যাহতি চান। তাতে বলা হয়, এ মামলার ঘটনার সঙ্গে আসামি শেখ বশিরউদ্দীনের কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি।
জুলাই আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রামপুরায় সিএনজি স্টেশনের সামনে গুলিতে আহত হন ৩০ বছর বয়সী সোহান শাহ। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৮ অগাস্ট তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় সোহানের মা সুফিয়া বেগম বাদী হয়ে গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৫৭ জনের নামে আদালতে মামলা করেন। এজাহারে ৪৯ নম্বর আসামি হিসেবে নাম আসে শেখ বশিরউদ্দীনের। তার পরিচয়ে বলা হয়, আওয়ামী লীগ নেতা।
ঠিক তার আগের নামটি অর্থাৎ ৪৮ নম্বর আসামি করা হয়েছে যশোর-১ আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিনকে। তাদের বাবা সেখ আকিজ উদ্দিন দেশের অন্যতম শিল্পগোষ্ঠী আকিজ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা। তাদের দুজনের ঠিকানাও দেওয়া হয়েছে একই। তবে মঙ্গলবার অব্যাহতি পেয়েছেন কেবল বশিরউদ্দীন।
এ মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক মন্ত্রী ও জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, ডিএমপির ডিবির সাবেক প্রধান হারুন অর রশীদ, আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, পুলিশের সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার, সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল ইসলাম, নরসিংদী-১ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম হিরু, নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ার আশরাফ খান দিলীপ, যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী সামন্ত লাল সেন, সাবেক এমপি সাইফুজ্জামান শিখর।