১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

জুবায়েদ হত্যা: জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদনে যা বলেছে পুলিশ

“স্যারকে তুমি মেরে ফেল, আমি আর স্যারকে সহ্য করতে পারছি না- প্রেমিককে বলেছিলেন সেই ছাত্রী।”

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 Oct 2025, 09:01 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:31 PM

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা জুবায়েদ হোসাইনকে হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার তার ছাত্রীসহ তিনজন আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর হাকিম আদালত জবানবন্দি রেকর্ড করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে।

বংশাল থানার এসআই মো. আশরাফ হোসেন জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদনে বলেন, ওই ছাত্রীর সঙ্গে গ্রেপ্তার কলেজছাত্রের দেড় বছর আগে থেকে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু এর মধ্যে প্রাইভেট পড়াতে গিয়ে সেই ছাত্রীর সঙ্গে জুবায়েদের প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। এ নিয়ে কলেজছাত্র প্রেমিকের সঙ্গে সেই ছাত্রীর ঝগড়া-বিবাদ শুরু হয়।

আবেদনে বলা হয়, জুবায়েদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের খবর মাসখানেক আগে জানতে পারে সেই ছাত্রীর প্রেমিক। বিষয়টি তিনি মানতে পারছিলেন না। আর সেই ছাত্রীও পরে তার প্রেমিককে বলেন, ‘স্যারকে তুমি মেরে ফেল, আমি আর স্যারকে সহ্য করতে পারছি না’।

“ছাত্রী ও তার প্রেমিক ছাত্রদল নেতা জুবায়েদকে হত্যার জন্য একাধিক পরিকল্পনা করেন। জুবায়েদ কখন বাসায় পড়াতে আসেন কখন চলে যান, সেসবের খবর প্রেমিককে নিয়মিত দেন তার ছাত্রী। এরপর ছাত্রীর প্রেমিক ও তার বন্ধু মিলে হত্যার পরিকল্পনা অনুযায়ী আগানগর বউ বাজার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ এলাকা থেকে ৫০০ টাকা দিয়ে ‘সুইচ গিয়ার চাকু’ কেনেন।”

গ্রেপ্তার তিনজনের জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদনে হত্যাকাণ্ডের ঘটনার বর্ণনা দিয়েছে পুলিশ।

তাতে বলা হয়, রোববার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে জুবায়েদ বংশাল থানার ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের রৌশান ভিলায় প্রাইভেট পড়াতে যান। আগে থেকেই সেখানে ওৎপেতে ছিলেন তার ছাত্রীর প্রেমিক ও প্রেমিকের বন্ধু। পরে জুবায়েদকে তার ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন দুজন। এ নিয়ে তাদের কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে চাকু বের করে ছাত্রীর প্রেমিক জুবায়েদের গলার ডানপাশে আঘাত করেন। ঘটনার সময় সেই ছাত্রী তৃতীয় তলায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। ঘটনার সঙ্গে গ্রেপ্তারদের জড়িত থাকার ব্যাপারে সাক্ষ্যপ্রমাণ ও ভিডিও ফুটেজ মিলছে।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই তানভীর মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, তিনজনের জবানবন্দির রেকর্ডের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মহানগর হাকিম মাসুম মিয়ার আদালত সেই ছাত্রীর জবানবন্দি রেকর্ড করে। আর আরেক মহানগর হাকিম মেহেদী হাসানের আদালত সেই ছাত্রীর প্রেমিক ও প্রেমিকের বন্ধুর জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

জুবায়েদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। এ ছাড়া কুমিল্লা জেলা ছাত্র কল্যাণ সংসদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন।

গেল রোববার জুবায়েদকে ছুরিকাঘাতের পর সিঁড়ির নিচতলা থেকে তিনতলা পর্যন্ত রক্ত পড়েছিল। তিনতলার সিঁড়িতে উপুড় হয়ে পড়েছিল নিথর জুবায়েদ।

তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়া মাত্র ঘটনাস্থলে জড়ো হন তার সহপাঠী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীসহ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। বিচারের দাবিতে তারা বিক্ষোভ দেখান তারা।

এরপর পুলিশ ওই বাসায় ওই ছাত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রায় ৫ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তারপর রাত ১১টায় ওই ছাত্রীকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

সোমবার রাতে দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জের ভাংনা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই ছাত্রীর প্রেমিককে গ্রেপ্তার করা হয়। রাতেই পল্টনের চামেলীবাগ শান্তিনগর এলাকা থেকে সেই প্রেমিকের বন্ধুকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মঙ্গলবার জুবায়েদের ভাই এনায়েত হোসেন বংশাল থানায় মামলা করেন। সেখানে আসামিদের পরস্পরের যোগসাজশে জুবায়েদকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলার ডান পাশে আঘাত করে হত্যার কথা বলা হয়।