Published : 02 Aug 2026, 08:57 PM
দুর্নীতির দুই মামলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক কর্মচারী আবজাল হোসেন এবং তার স্ত্রী রুবিনা খানমের বিরুদ্ধে ৯ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।
রোববার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালত সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
সাক্ষীরা হলেন- এনবিআরের ই-ট্যাক্স ম্যানেজমেন্ট ইউনিটের উপ কর কমিশনার মাসুম বিল্লাহ, ঢাকা কর অঞ্চল-৪ এর অফিস সহকারী জাহাঙ্গীর আলম, কর অঞ্চল-৬ এর প্রধান সহকারী শারমিন হোসেন, কর অঞ্চল-১৭ এর অফিস সহকারী কাজী আলমগীর হোসেন, বঙ্গভবনের গণপূর্ত উপবিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী জিন্নাতুর রহমান, কুমিল্লা গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী শামসুল আরেফিন, সুনামগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আশরাফ হোসেন, ফরিদপুরের সাব-রেজিস্ট্রার প্রদীপ কুমার বিশ্বাস।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আরিফ হোসেন বলেন, “এক মামলায় প্রদীপ কুমার বিশ্বাস ও জাহাঙ্গীর আলম সাক্ষ্য দিয়েছেন। আরেক মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন ৭ জন। দুই মামলাতেই প্রদীপ কুমার সাক্ষী হিসেবে ছিলেন। আগামী ১৬ অগাস্ট দুই মামলায় পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন রাখা হয়েছে।”
আসামিদের মধ্যে আবজাল হোসেন কারাগারে রয়েছেন; তবে রুবিনা খানম পলাতক। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।
২০১৯ সালের ২৭ জুন দুদকের উপ-পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ মামলা দুটি করেন। মামলা দুটিতে আবজাল দম্পতির বিরুদ্ধে ৩৬ কোটি ৩০ লাখ ৬১ হাজার ৪৯৩ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তরের মাধ্যমে ২৮৪ কোটি ৫১ লাখ ১৩ হাজার ২০৭ টাকা পাচারের অভিযোগও আনা হয়েছে।
প্রথম মামলায় আবজালের বিরুদ্ধে শুরুতে চার কোটি ৭৯ লাখ ৩৪ হাজার ৪৪৯ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। তিনি দুদকে জমা দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে দুই কোটি দুই লাখ এক লাখ ১৯ হাজার ৭৮৫ টাকার সম্পদ গোপন করেছেন বলেও মামলায় তথ্য দেওয়া হয়েছিল। পরে এ মামলায় রুবিনাকেও আসামি করা হয়েছে।
দ্বিতীয় মামলায় আবজাল-রুবিনার বিরুদ্ধে ৩১ কোটি ৫১ লাখ ২৩ হাজার ৪৪ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জেনের অভিযোগ করে দুদক। এই দম্পতি দুদককে দেওয়া হিসাব বিবরণীতে পাঁচ কোটি ৯০ লাখ ২৮ হাজার ৯২৬ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন বলে মামলায় বলা হয়েছে।
গত বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি দুই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।
এর মধ্যে এক মামলায় ৬১ সাক্ষীর মধ্যে ৪৫ জনের এবং আরেক মামলায় ৩৮ সাক্ষীর মধ্যে ২৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে।
২০২০ সালের ২৬ অগাস্ট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান আবজাল হোসেন। আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।