১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

আওয়ামী লীগের অপসারিত কাউন্সিলরদের সহায়তা চাওয়া হয়নি: নাগরিক কমিটি

“আওয়ামী লীগ মনোনীত কাউন্সিলরদের পুনর্বহালের দাবি তোলেননি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী”, বিজ্ঞপ্তিতে বলেন সংগঠনের মুখপাত্র সামান্তা শারমিন।

আওয়ামী লীগের অপসারিত কাউন্সিলরদের সহায়তা চাওয়া হয়নি: নাগরিক কমিটি
ফাইল ছবি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 Dec 2024, 12:45 AM

Updated : 10 Sep 2026, 12:26 PM

নতুন রাজনৈতিক দল গঠনে আওয়ামী লীগের অপসারিত কাউন্সিলরদের কাছে জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কোনো সহায়তা চাননি বলে সংগঠনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে।

শুক্রবার সংগঠনের মুখপাত্র সামান্তা শারমিনের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “জাতীয় প্রেস ক্লাবের সমাবেশে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ জনপরিসরে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়েছে। 

“উক্ত সমাবেশে জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক ‘ফ্যাসিবাদী’ আওয়ামী লীগ মনোনীত কাউন্সিলরদের পুনর্বহালের দাবি করেননি।"

‘ছাত্র-গণহত্যা ও বৈষম্যবিরোধী সিটি ও পৌর কাউন্সিলরদের জনস্বার্থে পুনর্বহালের দাবিতে ও বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে সহযোগিতা করার লক্ষ্যে’ গত বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে একটি সমাবেশ হয়। 

বাংলাদেশ সিটি ও পৌর কাউন্সিলর অ্যাসোসিয়েশন এই সমাবেশ আয়োজন । সেখানে জাতীয় নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একাধিক নেতা বক্তব্য দেন। 

সেখানে কাউন্সিলরদের উদ্দেশে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘জাতীয় নাগরিক কমিটির উদ্যোগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে যে নতুন রাজনৈতিক দল আসছে, সেই দলে আমরা আপনাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা কামনা করছি।”

এই সমাবেশ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে বিএনপির অনেক নেতা এর সমালোচনা করেন। শুক্রবার মোহাম্মদপুরে দলীয় এক অনুষ্ঠানে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, “আমরা খবরের কাগজে দেখছি, জাতীয় নাগরিক কমিটি নামে একটি রাজনৈতিক দল করা হচ্ছে। কিন্তু এটা যেন আবার রাজকীয় দল না হয়। 

“এই দলকে সুসংগঠিত করতে ইতোমধ্যে যে কমিশনার-কাউন্সিলরদের বাদ দেওয়া হয়েছে, তাদের সেখানে নেওয়া হবে, এমন কথা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের আমলে শেষ যে কাউন্সিলর বা পৌর নির্বাচন, মেয়র নির্বাচন হয়েছে, যারা কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছে, তারা তো অধিকাংশ ‘ক্রিমিনাল’ ।”

এসব সমালোচনার ব্যাখ্যায় জাতীয় নাগরিক কমিটির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী নয়, বরং জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্রজনতার পক্ষে ভূমিকা পালনকারী এবং ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী’ রাজনৈতিক দলগুলো সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীদের স্থানীয় সরকারে ‘প্রশাসক’ পদে নিয়োগের কথা বলেছিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।”

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, "জাতীয় নাগরিক কমিটি কোনো ‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদী’ কাউন্সিলর কিংবা অন্য কোনো পদধারী ব্যক্তিকে স্বপদে বহাল চায় না।”

বিগত ‘ফ্যাসিবাদী সময়ে’ আওয়ামী লীগ নির্বাচনব্যবস্থা ও কাঠামোকে ধ্বংস করে দিয়েছিল মন্তব্য করে এতে বলা হয়, “জাতীয় পর্যায়ে ‘একতরফা নির্বাচন’, ‘রাতের ভোট’ এবং সবশেষ ‘ডামি নির্বাচন’ ইত্যাদি মডেলে জাতির সঙ্গে আওয়ামী ‘ফ্যাসিবাদীদের’ প্রতারণা এবং ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার এক মহোৎসব লক্ষ্য করেছে জাতি। 

“স্থানীয় পর্যায়েও এই ধরনের নির্বাচনি মডেল অনুসরণ করা হয়েছে। তারপরও ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী’ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন এবং অনেক বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে জয়ী হন। ‘স্থানীয় সরকার কমিশন’ গঠন করা ব্যতীত এই পরিস্থিতির সঠিক পর্যালোচনা সম্ভব নয়।"