২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

দেশে এলপিজির মজুদ ‘পর্যাপ্ত, সংকট নেই’, বলছেন তথ্য উপদেষ্টা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তির কোনো নেতিবাচক প্রভাব রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে পড়বে না, বলেন তিনি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 29 Sep 2026, 03:49 PM

Updated : 29 Sep 2026, 04:21 PM

রান্নার কাজে ব্যবহৃত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস-এলপিজির ‘পর্যাপ্ত’ মজুদ দেশে রয়েছে এবং বাজারে কোনো ‘সংকট না থাকার’ কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

মজুদদারি করে কৃত্রিম সংকট তৈরির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ার করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের কাজের অগ্রগতি নিয়ে সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা এমন হুঁশিয়ারি দেন।

চার দিন আগে শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে এলপিজির সংকটের তথ্য পাওয়া যায়। এ কারণে কোথাও কোথাও দোকান বন্ধ রাখার কথা বলেছেন বিক্রেতারা। যেখানে পাওয়া যাচ্ছিল সেখানেও ২১০০ থেকে ৩৬০০ টাকা পর্যন্ত দাম চেয়েছেন বিক্রেতারা।

অথচ সেপ্টেম্বরের জন্য সরকার নির্ধারিত দর অনুযায়ী, রান্নার কাজে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১৫৮৫ টাকা।

সে দিন এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, “অলরেডি মধ্যপ্রাচ্যের ক্রাইসিস পেট্রোলিয়াম খাতের উপর একটা সমস্যা। এই ক্রাইসিস যতক্ষণ চলবে ততক্ষণ পর্যন্ত সবাইকে সাফার করতে হবে।”

মঙ্গলবার নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা বলেন, “এলপিজির বর্তমান আমদানি, মজুদ ও সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, দেশে এলপিজির পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। এলপিজি আমদানিকারক ও অপারেটররাও জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশে এলপিজির কোনো সংকট নেই।”

তিনি বলেন, এনবিআর থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত অগাস্টে দেশে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬০ মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসের ২৯ তারিখ পর্যন্ত আমদানি হয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার মেট্রিক টন।

জাহেদ উর রহমান বলেন, “পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও এরই মধ্যে কোথাও কোথাও এলপিজির দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এ ধরনের খবর গণমাধ্যমেও এসেছে। তাই অসাধু উদ্দেশ্যে কেউ যেন এলপিজি মজুদ করে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।”

তিনি বলেন, “বর্তমানে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়ার এক ধরনের প্রবণতা রয়েছে। এ কারণে কেউ কেউ মজুদ করার চেষ্টা করতে পারেন। তবে কৃত্রিম সংকট তৈরির উদ্দেশ্যে মজুদদারি করা হলে সরকার এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে।”

তথ্য উপদেষ্টা জানান, সোমবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে এলপিজি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় দেশের এলপিজির আমদানি, মজুদ, সরবরাহ, বাজারদর ও সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনা করা হয়। সভায় এলপিজি আমদানিকারক ও অপারেটরদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের এলপিজির যোগান ও মজুদ পরিস্থিতি ভালো। বর্তমানে বাজারে এলপিজির কোনো ধরনের সংকট নেই বলেও তারা মন্ত্রণালয়কে আশ্বস্ত করেন।

‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তির প্রভাব রূপপুরে পড়বে না’

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের চুক্তির কোনো নেতিবাচক প্রভাব রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পড়ার আশঙ্কা নেই বলেছেন তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি মনে করি না পড়বে। বাংলাদেশ মাত্র পারমাণবিক শক্তির যুগে প্রবেশ করেছে। ভবিষ্যতে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনায় বিভিন্ন ধরনের অপশন খোলা রাখতে হবে। বাংলাদেশ ভবিষ্যতে আরও পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র করবে কি না, সেটিও একটি বিষয়।

“পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষেত্রে জ্বালানি সরবরাহের পাশাপাশি আরও অনেক জটিল বিষয় রয়েছে। এর মধ্যে প্রকৌশলীদের প্রশিক্ষণের বিষয়ও রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনা করে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের প্রয়োজন অনুযায়ী চুক্তি করা হবে।”

উপদেষ্টা বলেন, “বাংলাদেশ শুরু থেকেই তার জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক ও যোগাযোগ বজায় রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাশিয়ার সংকট ও সমস্যা থাকলেও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

“বাংলাদেশের স্বার্থে যেখানে যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকবে। চীন, ভারত, রাশিয়া, তুরস্কসহ যেসব দেশের সঙ্গে প্রয়োজন, বাংলাদেশ তাদের সঙ্গে এনগেজমেন্ট করবে। এ নিয়ে কোনো সমস্যা হওয়ার কারণ নেই।”