Published : 07 Sep 2025, 07:46 PM
মাছ ধরার নামে সাগরে বিভিন্ন ট্রলারে ডাকাতির অভিযোগে চট্টগ্রামে অস্ত্রসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করার তথ্য দিয়েছে নৌ পুলিশ।
নগরীর পুরাতন ফিশারিঘাট এলাকায় শনিবার রাতে মাছ ধরার ট্রলারে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এদের বাইরে কয়েকজন পালিয়ে গেছে বলে দাবি পুলিশের।
গ্রেপ্তার আটজন হলেন- হরি চন্দ্র দাশ (৪০), আসিফ উদ্দিন ওরফে তামিম (২২), ফাহাদ আহম্মদ (২০), তাপস ধর (২৫), পরিমল সাহা (৪৮), মো. নবী (২৮), মো. রাজীব (২৫) ও মো. হৃদয় (২০)।
পুলিশ বলছে, হরি চন্দ্র দাশ ট্রলারের মালিক এবং ডাকাত চক্রের নেতা।
চট্টগ্রাম নৌ পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার সাঈদ ইবনে রেজা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, চক্রটি সাগরে মাছ ধরতে যাওয়ার নামে বিভিন্ন ট্রলারে ডাকাতি করে মাছসহ মালামাল লুট করে। শনিবার রাতেও ডাকাতির প্রস্তুতি নিয়ে সাগরে যাওয়ার আগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এসময় তাদের কাছ থেকে ধারালো অস্ত্র, রকেট ফ্লেয়ারসহ বিভিন্ন ধরনের মালামাল জব্দ করা হয়।
চক্রটি গত এক মাসে দুবার ট্রলারে ডাকাতি করেছিল এবং শনিবারও ডাকাতি করার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা ছিল বলে পুলিশের ভাষ্য।
অভিযানের বর্ণনা দিয়ে সহকারী পুলিশ সুপার সাঈদ বলেন, শনিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফিশারিঘাট লোহার ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় নোঙর করে রাখা একটি মাছধরার ট্রলারে অভিযানে গেলে অনেকেই সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে ট্রলার থেকে সাতজনকে আটক করা হয়।
“তাদের দেওয়া তথ্যে ট্রলারের ইঞ্জিন রুম থেকে বিভিন্ন ধরনের ধারালো অস্ত্র এবং সদরঘাট এলাকার একটি আবাসিক হোটেল থেকে ট্রলার মালিক হরি চন্দ্রকে গ্রেপ্তার করা হয়।”
ট্রলার মালিক হরি চন্দ্র নিজেই ডাকাতির নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন দাবি করে সহকারী পুলিশ সুপার সাঈদ আরও বলেন, চক্রটি বঙ্গোপসাগরের হাতিয়া, সন্দ্বীপ, কুমিরা চ্যানেলে এবং কর্ণফুলী নদীর পতেঙ্গা, বাকলিয়া, কর্ণফুলী এলাকায় বিভিন্ন মাছ ধরার ট্রলার টার্গেট করে। পরে সেগুলোর সামনে গিয়ে রকেট ফ্লেয়ার বিষ্ফোরণ ঘটিয়ে বল্লমসহ ধারালো অস্ত্র নিয়ে উঠে পড়ে মালামাল লুট করে।
এ ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় একটি মামলা করা হয়েছে বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা সাঈদ।
বোয়ালখালীতে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার
এদিকে বোয়ালখালী উপজেলার শ্রীপুর-খরনদ্বীপ ইউনিয়নের জ্যেষ্ঠপুরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুটি শটগান ও ১৮ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে সেনাবাহিনী।
বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, অস্ত্রগুলো একটি ‘জলদস্যু’ চক্রের। চক্রটি কর্ণফুলী নদীতে ডাকাতি, চাঁদাবাজিসহ মাদক চোরাচালান করে।
এ চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তারে সেনাবাহিনী কাজ করছে বলে জানানো হয়।