Published : 11 Nov 2024, 12:30 PM
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের পাশে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ একাডেমি নির্মাণ করতে সংরক্ষিত বনভূমির যে ৭০০ একর জমি বরাদ্দ করা হয়েছিল, তা বাতিল করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
রোববার কক্সবাজার জেলা প্রশাসককে পাঠানো এক চিঠিতে ভূমি মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘বঙ্গবন্ধু একাডেমি অব পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ নির্মাণের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে বন্দোবস্ত করা কক্সবাজার জেলার সদর উপজেলার ঝিলংজা এলাকার ‘পাহাড়’ শ্রেণির ৪০০ একর ও ‘ছড়া’ শ্রেণির ৩০০ একরসহ মোট ৭০০ একর জমি রক্ষিত বনের গেজেটভুক্ত হওয়ায় এই বন্দোবস্ত বাতিল করা হয়েছে।
এ বিষয়ে যথাযথ কার্যক্রম নিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানোর অনুরোধ করা হয় ওই চিঠিতে।
২০১৮ সালে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন বঙ্গবন্ধু একাডেমি অব পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন নির্মাণের জন্য পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে অনাপত্তিপত্র চায়; সংস্থাটি ওই বছরই বিভিন্ন শর্তে অনাপত্তিপত্র দেয়।
ওই এলাকাকে ১৯৩৫ সালে সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরপর ১৯৮০ সালে এটাকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়। সর্বশেষ ১৯৯৯ সালে প্রতিবেশগত সঙ্কটাপন্ন এলাকা ঘোষণা হয়। ২০০১ সালে দেশের বনভূমির যে তালিকা করা হয়, তাতেও ঝিলংজা মৌজা বনভূমি হিসেবে আছে।
সংসদীয় কমিটিতে মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ওই জমিতে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় উপকূলীয় এলাকায় বনায়ন প্রকল্পের আওতায় সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে ১০০ একর সৃজিত বাগান রয়েছে; ২০-২০০ ফুট পর্যন্ত বিভিন্ন উচ্চতার পাহাড় রয়েছে। প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো, গর্জন, চাপালিশ, তেলসুরসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে। ওই এলাকা হাতি, বানর, বন্য শুকর, বিভিন্ন প্রজাতির সাপ ও পাখির আবাসস্থল।
২০২১ সালে সংরক্ষিত বনভূমি উজার করে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ একাডেমি নির্মাণের উদ্যোগ বাতিলের সুপারিশ করেছিল সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটি।