১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

চেক ডিজঅনার: এক বছরের সাজার মামলায় গ্রেপ্তার দেখান হল রিজেন্টের সাহেদকে

সাহেদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে ৩৫টি।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 02 Aug 2026, 02:09 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:46 PM

চেক ডিজঅনারের এক মামলায় কোভিড নমুনা পরীক্ষায় ‘জালিয়াতির’ ঘটনায় আলোচিত রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ করিমকে এক বছরের সাজার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

ঢাকার তৃতীয় যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আরিফুল ইসলাম রোববার এ আদেশ দেন।  

আসামিপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ দবির উদ্দিন বলেন, গত ৩ মে আসামির অনুপস্থিতিতে আদালত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে তাকে এক বছরের কারাদণ্ড ও চেকের সমপরিমাণ ২৩ লাখ ১৮ হাজার ৩৫৮ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আইনজীবী মোহাম্মদ দবির উদ্দিন বলেন, ২০২০ সালের ১৬ জুলাই একই ঘটনায় বাদী আরেকটি মামলা সিএমএম আদালতে দায়ের করেছিলেন। 

“সেই মামলার বিষয়ে আমরা অবগত থাকলেও চেক সংক্রান্ত মামলার বিষয়ে জানতাম না। এ কারণে সাহেদের অনুপস্থিতিতে রায় ঘোষণা হয়েছে। আজ এ মামলায় তার জামিন আবেদন করা হলে বিচারক তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।"

 সাহেদের বিরুদ্ধে ৩৫ মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছেন এ আইনজীবী।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের ২৬ জুলাই বাহার ট্রেডার্স ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী হাফিজ উদ্দিন বাহার সাহেদের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ২৩ লাখ ১৮ হাজার ৩৫৮ টাকার চেক ডিজঅনারের অভিযোগ আনা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, বাদীর কাছ থেকে বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী কেনার জন্য আসামির সঙ্গে চুক্তি হয়। প্রথমে কিছু টাকা নগদ পরিশোধ করলেও পরে তিনি চেকের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করতেন। নির্মাণসামগ্রীর দাম বাবদ আসামি ২০১৯ সালের ১০ ডিসেম্বর উত্তরা ব্যাংকের বংশাল থানার নবাবপুর শাখার একটি চেক দেন। 

“২০২০ সালের ৫ মে বাদী চেকটি নগদায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে দিলে, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় তা ফেরত দেয়। একই বছরের ২ জুন বাদী আসামিকে চেকের সমপরিমাণ অর্থ পরিশোধের জন্য এক মাসের সময় দিয়ে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। তবে ওই সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ করেননি সাহেদ।”

গেল ২০ জুলাই সকালে রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকা থেকে সাহেদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওইদিনই জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। 

এরপর ২৭ জুলাই তাকে এনআরবি ব্যাংকের ঋণ খেলাপির দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এক কোটি টাকার বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী গ্রহণ ও সেই টাকা পরিশোধ না করে প্রতারণার অভিযোগে করা এক মামলায় বৃহস্পতিবার ১০ দিনের জামিন পান সাহেদ। 

তবে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার থাকায় তিনি কারামুক্ত হতে পারেননি।