১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সাধারণ স্কুলগুলোকেও প্রতিবন্ধীবান্ধব করা হচ্ছে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

পাঠ্যক্রমে প্রয়োজনীয় সংস্কার, ব্রেইল পদ্ধতি এবং সাইন ল্যাঙ্গুয়েজের ব্যবহার নিশ্চিতে কাজ চলছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 20 Aug 2026, 05:31 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:52 PM

শিক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষায়িত স্কুলগুলোর পাশাপাশি মূলধারার শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধী শিশুদের অংশগ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত।

তিনি বলেছেন, “সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিশেষায়িত স্কুলগুলোকে আরও সুসংগঠিত করা হচ্ছে; যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুরাও শিক্ষার সুযোগ পায়। একই সঙ্গে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সাধারণ স্কুলগুলোকেও প্রতিবন্ধীবান্ধব করা হচ্ছে। পাঠ্যক্রমে প্রয়োজনীয় সংস্কার, ব্রেইল পদ্ধতি এবং সাইন ল্যাঙ্গুয়েজের ব্যবহার নিশ্চিত করতেও কাজ চলছে।”

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রতিবন্ধী অধিকার এবং সেবা সুরক্ষা বিষয়ক আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় ও বাস্তবায়ন কমিটির সভায় কথা বলছিলেন তিনি। এম এ মুহিত প্রতিবন্ধী অধিকার এবং সেবা সুরক্ষা বিষয়ক আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় ও বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি। 

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সেবাকে কোনো চ্যারিটি হিসেবে নয়, বরং সরকার একে সাংবিধানিক ও নাগরিক অধিকার হিসেবে দেখছে বলেও মন্তব্য করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, “অন্য সকল সাধারণ নাগরিকের মত প্রতিটি প্রতিবন্ধী ব্যক্তি যেন সমান অধিকার ভোগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে।” 

বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগের ফলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সেবা সুরক্ষায় এরই মধ্যে বেশ কিছু অগ্রগতি হয়েছে দাবি করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ রেলওয়ের যে কোনো শ্রেণিতে এবং মেট্রোরেলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ভাড়ায় ২৫ শতাংশ ছাড় নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন নির্মিতব্য সব স্টেশনে প্রতিবন্ধীবান্ধব অবকাঠামো নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শুধু যাতায়াতের র‌্যাম্প নয়, টিকিট কাটা থেকে শুরু করে বাহনে ওঠা এবং টয়লেট ব্যবহারসহ পুরো ভ্রমণ যেন প্রতিবন্ধীদের জন্য নির্বিঘ্ন হয়, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।”

ঢাকার কড়াইল বস্তিতে প্রতিবন্ধী শিশুদের শনাক্তকরণ ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ইতিমধ্যে উদ্বোধন করা হয়েছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২২টি জেলার ২২ উপজেলায় ‘শিশু স্বর্গ’ প্রকল্পের মাধ্যমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিবন্ধী শিশু ও ব্যক্তিদের সার্বিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হবে বলেও জানান এম এ মুহিত।  

অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল বলেন, “তথ্যপ্রযুক্তির যুগে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতেও প্রতিবন্ধীদের প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করা হচ্ছে। প্রতিটি প্রতিবন্ধী মানুষের ভেতরে কোনো না কোনো বিশেষ মেধা বা দক্ষতা রয়েছে। সে দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে একটি মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়াই সরকারের মূল লক্ষ্য।”