Published : 05 Aug 2026, 12:37 AM
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে চার থেকে পাঁচটি মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দুবাইয়ে পাঠানোর তথ্য দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম।
এছাড়া তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের পক্ষ থেকে সেখানে একটি আইনি সেবা প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করার কথা বলেছেন তিনি।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন প্রধান কৌঁসুলি।
বাংলাদেশের অনুরোধে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ সেখানে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
গেল ৩০ জুলাই তিনি জামিনে মুক্তি পেলেও বাংলাদেশে সেই খবর আসে রোববার।
সেদিন ঢাকায় পুলিশ সদরদপ্তরে ইন্টারপোল শাখা ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) এখনো বেনজীরের মুক্তির বিষয়ে কিছু জানে না।
তবে পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের জামিন আদেশ যাতে আদালত বাতিল করে, সেজন্য দুবাইয়ের আইনজীবী নিয়োগ করা করা হয়েছে।
জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী সরকারের পতন হলে সাবেক এই আইজিপির বিরুদ্ধে একের পর এক চাঁদাবাজি, হত্যাচেষ্টার মামলা হতে থাকে। আর দুদক পর্যায়ক্রমে অনুসন্ধান শেষে ছয়টি মামলা দায়ের করে। তিন মামলায় বেনজীরকে করা হয় প্রধান আসামি। পাশাপাশি স্ত্রী জীশান মির্জা, দুই মেয়ে ফারহিন রিশতা বিনতে বেনজীর ও তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরের পৃথক তিন মামলায় তাকে সহযোগী দেখানো হয়। মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার মামলাতেও আসামি হিসেবে বেনজীরের নাম রয়েছে।
বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি বলেন, ট্রাইব্যুনালের কাজ হচ্ছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেওয়া। সেই পরোয়ানা বাস্তবায়ন বা কার্যকর করার দায়িত্ব সরকারের।
বেনজীরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাগুলো দুবাই পর্যন্ত পৌছেছে তুলে ধরে তিনি বলেন, “চার-পাঁচটা মামলার ওয়ারেন্ট তো তার কাছে পাঠানো হয়েছে।”
বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সেখানে একটি আইনি সেবা প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ করা হয়েছে তুলে ধরে আমিনুল ইসলাম বলেন, “তাকে আনার জন্যে আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে সেখানে একটা ‘ল ফার্ম’ নিয়োগ করা হয়েছে।”
বেনজীর দুবাইয়ে জামিন পেয়েছেন কি না বা পেয়ে থাকলে কী ধরনের জামিন পেয়েছেন, সে বিষয়ে সরকারই বিস্তারিত বলতে পারবে, বলেন তিনি।
বেনজীরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর তিনি দুবাইয়ের কারাগার থেকে বের হয়ে যাওয়ার বিষয়ে প্রসিকিউশনের কোনো ব্যর্থতা আছে কি না—এমন প্রশ্নে প্রধান কৌঁসুলি বলেন, “গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেওয়া ট্রাইব্যুনালের কাজ। সেটি বাস্তবায়ন বা কার্যকর করার দায়িত্ব সরকারের।”
এদিকে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর মুজাফফরকে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে তিনি বলেন, তাকে দুই দিনের জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি।
“তবে তাকে যেকোনো সময় জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে,” বলেন প্রধান কৌঁসুলি।
মুজাফফরকে কখন জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে, সে বিষয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, “ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন অন্য সংশ্লিষ্ট তদন্তগুলোও চালিয়ে যাচ্ছে। ওই তদন্তগুলোর সঙ্গে মুজাফফরকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তা তৈরি হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।”
আগের খবর:
দুবাইয়ে বেনজীরের জামিনে মুক্তির খবর, জানে না বাংলাদেশের পুলিশ