০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

লালবাগে বাসায় পড়ে ছিল আইনজীবীর লাশ

“ধারণা করা হচ্ছে, তিনি স্ট্রোক করে মারা গেছেন। তবে ময়নাতদন্তের পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে,” বলেন ওসি জামিল হোসেন।

বিডিনিউজ২৪

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 12 Sep 2026, 06:51 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:58 AM

ঢাকার লালবাগের ভাড়া বাসা থেকে এক আইনজীবীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

আনোয়ার হোসেন নামে ৪৭ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির দিন দুয়েক আগে মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা পুলিশের।

শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে লালবাগের শহীদনগর বউবাজার এলাকার ৩ নম্বর গলির একটি বাড়ির দ্বিতীয় তলার বাসা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

পরে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর কথা বলেছেন লালবাগ থানার ওসি মোহাম্মদ জামিল হোসেন।

তিনি বলেন, “নিহত আনোয়ার জজ কোর্টের একজন আইনজীবী ছিলেন। কিন্তু বার কাউন্সিলে ২০১২ সালের পর থেকে অনিয়মিত ছিলেন।”

পুলিশ বলছে, তার গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলায়। পরিবারের অন্য সদস্যরা কামরাঙ্গীরচর এলাকায় থাকেন।

ওসি বলেন, “তিনি বিয়ে করেছিলেন, সম্ভবতো ডিভোর্স হয়ে গেছে। ওই বাসায় তিনি একাই থাকতেন।”

শনিবার ওই বাসার পাশের কক্ষের এক ভাড়াটিয়া তাকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। 

লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তার বোন ও বোন জামাই ঘটনাস্থলে যান। সিআইডির ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন।

ওসি জামিল আরও বলেন, “ধারণা করা হচ্ছে তিনি স্ট্রোক করে মারা গেছেন। তবে ময়নাতদন্তের পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।”

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনোয়ারের বড় ভাই দোলোয়ার হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার পর থেকে আনোয়ারকে ফোন ও অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছিল না।

“আমার ভাই ৪ সেপ্টেম্বর ওই বাসায় উঠেছিলেন। মা মারা যাওয়ার পর থেকে আমার ভাই আলাদা থাকত। ও কারো সঙ্গে খুব একটা কথাও বলতো না। পরিবারের কারো সঙ্গে খুব একটা যোগাযোগ রাখত না। একা একা নিজের মতো থাকত, নিজের মতো করেই চলত।”

তার ভাষ্য, ব্যক্তিজীবনে আনোয়ার অবিবাহিত ছিলেন। ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট।

আনোয়ারের সহকর্মী পরিচয় দেওয়া মামুনুর রশিদ নামে এক আইনজীবী বলেন, “তিনি মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ ছিলেন। একা একা থাকতেন, চুপচাপ স্বভাবের ছিলেন। কাউকে কোনো কিছুই বলতেন না কখনও।

“আমাদের সঙ্গে তিনি ঠিকমত কথা বলতেন না, এমনকি কোর্টেও ঠিকমতো আসতেন না। তার কোনো জুনিয়র সহকারীও ছিলেন না। প্রেমঘটিত বিষয় ও পারিবারিক নানা কারণে তিনি হতাশায় ভুগছিলেন।”