Published : 13 Nov 2025, 09:46 PM
অন্তত ১০টি দেশের শান্তিরক্ষা মিশনে কাজ করা বাংলাদেশের সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে কেন ‘শান্তি প্রতিষ্ঠা করছে না’ তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, সেনাবাহিনীই একমাত্র শক্তি যারা চাইলেই পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী মানুষদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে শান্তি আনতে পারেন।
বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকায় এক আলোচনা সভায় সেনাবাহিনীর উদ্দেশে তিনি বলেন, “বিগত ৪০ বছরে আপনারা ১০টি দেশে শান্তিরক্ষা মিশনে সফলতার সাথে কাজ করেছেন। সারাবিশ্বে যদি শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে পারেন তাহলে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠা করছেন না কেন?”
তিনি বলেন, “সেনাবাহিনীর যদি সদিচ্ছা থাকে তবে সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে না, সেনাবাহিনীই পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্রদান করে সেখানে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারে।”
বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন।
পরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিচারহীনতা সংস্কৃতি’ শীর্ষক এ আলোচনা সভায় অতিথিদের দেওয়া বক্তব্য তুলে ধরে সংবাদমাধ্যমে পাঠায়।
আলোচনাকালে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “জাতি হিসেবে আমরা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিইনি। সংখ্যাগরিষ্ঠতন্ত্র যে কতটা আত্মঘাতী তা মুক্তিযুদ্ধের সময়ে পাকিস্তান বুঝতে পেরেছিল। যারা সংখ্যাগরিষ্ঠ নয় তাদেরকে আমরা দ্বিতীয় শ্রেণির মানুষ মনে করি। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে হবে।
“গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী যে আশা-আকাঙ্খা ছিল, সে আশা আর এখন দেখতে পাচ্ছি না।”
তবে ৭২ এর সংবিধানে ‘দেশের জনগণ বাঙালী বলিয়া পরিচিত হইবেন’ বলে যে ধারাটি ছিল, সেটি প্রস্তাবিত জুলাই সনদ থেকে বাতিল করে ‘বাংলাদেশ একটি বহু জাতিগোষ্ঠীর, বহু সংস্কৃতির দেশ যেখানে সকল জনগোষ্ঠী তাদের অধিকার চর্চা করতে পারবে’ ধারাটি যুক্ত করার বিষয়টিকে ‘আশাব্যঞ্জক’ হিসেবে দেখছেন তিনি।
সভায় নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রধান এবং নারীপক্ষের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শিরীন হক বলেন, “দেশের কোনো জনগোষ্ঠীকে ‘সংখ্যালঘু’ শব্দটি চাপিয়ে দেওয়ার মানে সেই জনগোষ্ঠীর মানুষের অধিকার, মানবিক মর্যাদাকে অপমান করা, ছোট করা। অথচ সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের সকল মানুষের সমান অধিকার ও মানবিক মর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে।”
পার্বত্য চট্টগ্রামকে ‘সামরিকীকরণ এবং গোয়েন্দা তৎপরতায়’ দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে আলাদা করে রাখা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তার ভাষ্য, “সামরিকীকরণ আর সীমান্ত রক্ষা দুটি আলাদা জিনিস। সীমান্ত রক্ষার জন্য একটি শক্তিশালী বাহিনী রাখা দরকার, কিন্তু সে বাহিনী যেন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় কোনো ধরনের ব্যাঘাত তৈরি না করে।”
এ সময় তিনি কল্পনা চাকমাকে অপহরণের এত বছর পরেও হদিস না পাওয়া, বম নারী-পুরুষের অনেকেই কারাগারে থাকাকে ‘বেদনাদায়ক’ মন্তব্য করে পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল গুম, হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ‘সঠিক ডকুমেন্টেশনের’ আহ্বান জানান।
আরও বক্তব্য দেন কবি ও সাংবাদিক সোহরাব হাসান, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের’ যুগ্ম সমন্বয়কারী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক খায়রুল ইসলাম চৌধুরী।