অভ্যুত্থানে নিহত অজ্ঞাতদের লাশ উত্তোলন ‘শুরু করতে’ রায়েরবাজার পরিদর্শনে সিআইডি
পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৪ অগাস্ট ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান লাশ উত্তোলনের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটানো জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত অজ্ঞাতনামাদের পরিচয় শনাক্ত করতে কবরস্থান থেকে লাশ উত্তোলনের প্রস্তুতি ‘প্রায় শেষ’ করে আনার কথা জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি।
এর অংশ হিসেবে মঙ্গলবার বিকেলে রায়েরবাজার কবরস্থান এলাকা পরিদর্শন করে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান বলেন, “লাশ উত্তোলনের জন্য আমরা অনেকদিন ধরেই প্রিপারেশন নিচ্ছি। এজন্য আমাদের ক্রাইম সিন ইউনিট মাঝেমধ্যেই সেখানে যান। আমাদের প্রিপারেশন সমাপ্তির পর্যায়ে রয়েছে। যেদিন লাশ উত্তোলন শুরু হবে, সেদিন আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে জানাব।”
পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৪ অগাস্ট ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান লাশ উত্তোলনের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
রায়েরবাজার গণকবরে জুলাই-অগাস্ট মাসে যতগুলো অজ্ঞাতনামা লাশ দাফন করা হয়েছে, আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে সেসব উত্তোলন করে ডিএনএ প্রোফাইল সংরক্ষণ করে লাশগুলোর পরিচিতি ও মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছিল পুলিশ।
সিআইডি জানিয়েছে, লাশগুলো উত্তোলনের পর ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ নমুনা নিয়ে আবার যথাযথ প্রক্রিয়ায় দাফন করা হবে। এ প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করবে বিদেশি বিশেষজ্ঞ ফরেনসিক টিম।
জুলাই আন্দোলনে নিহত ১১৪ জনকে রাজধানীর রায়েরবাজার কবরস্থানে দাফন করা হয়। যে জায়গায় তাদের দাফন করা হয়েছে, সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে সে জায়গাটি বিশেষভাবে মার্বেল পাথর, টাইলস দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে।
গত ২ অগাস্ট রায়েরবাজার কবরস্থান পরিদর্শনে গিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী নিহতদের পরিচয় শনাক্তে সরকারের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছিলেন।
সেদিন তিনি বলেছিলেন, "দাফন করা অনেককেই শনাক্ত করা যায়নি। কীভাবে শনাক্ত করা যায় সে ব্যাপারে চিন্তা ভাবনা আছে। এতদিন কবর থেকে মরদেহ উঠানো হোক এটা রাজি হয়নি অনেকেই। এখন মোটামুটি সবাই রাজি হয়েছে। সবাই রাজি হলে শনাক্ত করব ডিএনএ'র মাধ্যমে। কেউ যদি তাদের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যেতে চায় ওটাও আমরা অনুমতি দেব।"
এ কার্যক্রম শুরু হতে বেশি সময় লাগবে না বলে মন্তব্য করেছিলেন উপদেষ্টা। তবে চার মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো লাশ উত্তোলন শুরু করতে পারেনি পুলিশ।
