কম্বোডিয়ায় নিয়ে ৫ হাজার ডলারে বিক্রি, চক্রের ২ সদস্য গ্রেপ্তার
কম্বোডিয়া নিতে তাদের পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ৬ লাখ টাকা করে নেওয়া হয়।
চাকরির প্রলোভনে কম্বোডিয়ার নিয়ে দুইজনকে স্ক্যাম সেন্টারে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগে মানবপাচার চক্রের ২ সদস্যকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি।
সংস্থাটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলছে, ওই দুই ভুক্তভোগীকে দেশটিতে নিয়ে পাসপোর্ট কেড়ে নিয়ে ৫ হাজার ডলারে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল। পরে সেখানে আটকে রেখে তাদের নির্যাতন করে আরও মুক্তিপণ আদায় করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন- শাওন মোল্লা ও সাকিব সরকার। ঢাকার পল্টন এলাকায় মঙ্গলবার দুপুরে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ভুক্তভোগী দুই তরুণের অভিযোগ প্রসঙ্গে সিআইডি বলছে, বিদেশে ভালো চাকরির আশায় তারা ওই চক্রের প্রলোভনে পড়ে কম্বোডিয়ায় যান। তাদের প্রত্যেকের পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ৬ লাখ টাকা করে নেওয়া হয়।
কম্বোডিয়ায় পৌঁছানোর পরপরই তাদের পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া হয়। এরপর চক্রটি তাদেরকে ৫ হাজার ডলারে একটি স্ক্যাম সেন্টারে বিক্রি করে দেয়। ওই স্ক্যাম সেন্টারে তাদের অনলাইনে ‘প্রতারণামূলক’ কাজে বাধ্য করা হত। কাজ করতে অস্বীকার করলে বা সামান্য ভুল হলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হত।
একপর্যায়ে ওই দুই তরুণের মুক্তির জন্য ৫ হাজার ডলার দাবি করা হয়, যেটিও পরিবারের সদস্যরা তাদেরকে পাঠান। তবে সেখান থেকে মুক্তির পর চক্রটি তাদের ফের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দেশে ফেরার টিকিটের টাকাও আদায় করে।
ভুক্তভোগী দুই তরুণ প্রায় দুই মাস কম্বোডিয়ার একটি হোটেলে থাকতে বাধ্য হন। একপর্যায়ে ব্র্যাক মাইগ্রেশন সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাদের মাধ্যমে গত ৩ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরেন তারা।
পরে গত সোমবার তারা পল্টন থানায় মামলা করলে, এর প্রেক্ষিতে পাচার চক্রের ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
