১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে যুক্ত হতে চান না তিতুমীরের শিক্ষার্থীরা

“আমরা ঢাকা কলেজের অধিভুক্তি চাই না, আমরা স্বতন্ত্র রূপে তিতুমীর কলেজকে দেখতে চাই,” বলেন এক শিক্ষার্থী।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 07 Jul 2025, 09:25 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:20 PM

সরকারি সাতটি কলেজ নিয়ে প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে তিতুমীর কলেজকে অন্তর্ভুক্ত না করার দাবি জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা।

সোমবার দুপুরে কলেজের মূল ফটকের সামনে মানববন্ধন থেকে তিতুমীর কলেজকে ‘স্বতন্ত্র কাঠামো’ করার দাবি তুলে ধরেন একদল শিক্ষার্থী। ‘তিতুমীর রক্ষা আন্দোলন’ এর ব্যানারে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন।

তিতুমীর কলেজের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মোশাররফ হোসেন রাব্বী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাতটি সরকারি কলেজের সমন্বয়ে সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণা দেওয়া হয়ছে। তবে আমরা তিতুমীর কলেজকে স্বতন্ত্র হিসেবে দেখতে চাই। আমরা অধিভুক্তি চাই না।

“সাত দফা দাবিতে তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে এলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা তাদের সঙ্গে আলোচনা করে ছয়টি দাবি মেনে নেন। কিন্তু ওই দাবিগুলো বাস্তবায়নে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। আমরা ওই দাবিগুলো বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি।”

২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী আফিয়া অর্ণি বলেন, “এই আন্দোলন আজকের আন্দোলন নয়। আমাদের অগ্রজরা বহু আগে এ আন্দোলন শুরু করেন। আমাদের দাবি পূরণ না হওয়ায় আমরা আবার রাজপথে নেমেছি।

“সেশন জট ও সঠিক সময়ে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আমরা ঢাকা কলেজের অধিভুক্তি চাই না, আমরা স্বতন্ত্র রূপে তিতুমীর কলেজকে দেখতে চাই।”

সানজিদা নামে স্নাতকের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, “সেশন জট থেকে শুরু করে রেজাল্ট ও নতুন সেশনে ভর্তি সংক্রান্ত যেসব সমস্যা রয়েছে, এগুলোর একমাত্র সমাধান তিতুমীরকে স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হিসাবে রূপান্তর করা।

“আমরা স্পষ্ট সারা বাংলাদেশকে জানিয়ে দিতে চাই, আমরা কোনো অধিভুক্তিতে যাব না, আমরা এক মাত্র স্বতন্ত্র হিসেবে তিতুমীর কলেজকে দেখতে চাই।”

মানববন্ধন থেকে তিতুমীরের শিক্ষার্থীরা সাতটি দাবি তুলে ধরেন।

>> ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির পরীক্ষামূলক কাঠামোর অধীনে তিতুমীরকে নেওয়া যাবে না।

>> তিতুমীরের জন্য স্বতন্ত্র কাঠামো গঠন করতে হবে।

>> শিক্ষার্থীদের বিদ্যমান সকল স্বার্থ সংরক্ষণ করতে হবে।

>> বর্তমানে তিতুমীর কলেজে প্রায় ৩৫ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে, যাদের অধিকাংশই নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারের সদস্য। ফলে এত শিক্ষার্থীর সক্ষমতার বাইরে রাজধানীর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া অসম্ভব। তাই কোনোভাবেই আসন সংখ্যা কমানো যাবে না।

>> বৈধ প্রস্তাবনা বিবেচনায় নতুন সাবজেক্ট চালু করতে হবে। শিক্ষার্থী ও বিভাগ বিবেচনায় প্রয়োজনে নতুন অবকাঠামো নির্মাণ ও জমি অধিগ্রহণ করতে হবে।

>> শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাঠামো অনুযায়ী শিক্ষক সংখ্যা ঠিক রাখতে হবে এবং প্রয়োজনে শিক্ষকের পদ বৃদ্ধি করতে হবে।

>> ক্লাসের প্রয়োজনকালে বর্তমান শিক্ষার্থীগণ যাতে সেশনজটসহ নানা ধরনের প্রশাসনিক সমস্যার সম্মুখীন না হয় সে ব্যাপারে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।

তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরসহ মোট সাত দাবিতে অনশন ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকা অবরোধে ‘বারাসাত ব্যারিকেড টু নর্থ সিটি’ শুরু করেছিলেন শিক্ষার্থীরা।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি অনশনরত ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা মহাখালী রেলক্রসিং ও সড়ক আটকে অবস্থান নিলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের কলেজ শাখার যুগ্মসচিব মো. নুরুজ্জামানসহ কর্মকর্তারা কলেজ ক্যাম্পাসে এসে তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। ‘কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়’ বলে জানানো হলেও মন্ত্রণালয়ে পক্ষ থেকে অন্যান্য দাবি পূরণের আশ্বাস দেওয়ায় শিক্ষার্থীরা লাগাতার অবস্থান ও অনশন কর্মসূচি স্থগিত করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি থেকে মুক্ত হওয়া সরকারি সাত কলেজ নিয়ে গত মার্চে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ করার ঘোষণা দেওয়া হলেও তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীদের প্লাটফর্ম ‘তিতুমীর ঐক্য’ সেটি প্রত্যাখ্যান করে।

আরও পড়ুন-

'ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিপ্রত্যাখ্যান তিতুমীর ঐক্যের