Published : 03 Sep 2026, 09:36 PM
মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পরও সময়মত বিল সংসদে না আসায় ‘মর্মাহত’ হওয়ার কথা বলেছেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
তিনি বলেন, “মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর যত দ্রুত সম্ভব বিল সংসদে পাঠানো উচিত। তাহলে সংসদ সদস্যরা আগে থেকেই বিল দেখে আলোচনার প্রস্তুতি নিতে পারেন।”
জাতীয় সংসদে বৃহস্পতিবার ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল ২০২৬’ নিয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি এ কথা বলেন।
বিলটি উত্থাপনের পর দুই কার্যদিবসের মধ্যে পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
কিন্তু এ সময়সীমা নিয়ে আপত্তি তোলেন বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান। তার ভাষ্য, “কিছুদিন ধরে জটিল আইনও দুই কার্যদিবসের মধ্যে পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দিতে সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হচ্ছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিলের ক্ষেত্রেও দুই কার্যদিবস সময় দেওয়া হয়েছিল।
“প্রয়োজনে অংশীজন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে কথা বলার এখতিয়ার সংসদীয় কমিটির রয়েছে। সময় বেঁধে দিলে সেই সুযোগ সীমিত হয়। এসব বিল এমন নয় যে ৩০ বা ৯০ দিন পার হলে তা ‘ল্যাপস’ হয়ে যাবে। তাই সংসদীয় কমিটিকে এভাবে সময় বেঁধে দেওয়া ঠিক নয়।”
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চলতি অধিবেশনের সময়সীমার কারণেই দ্রুত প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে বলে তথ্য দেন।
কার্যউপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অধিবেশনের কাজ শেষ হওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “অধিবেশনের মেয়াদ বাড়ানো হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হবে।”
বিলটি সংসদ সদস্যদের কাছে আগেই পাঠানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে ডেপুটি স্পিকার বলেন, “আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে বারবার কার্যপ্রণালী বিধির ৭৭ বিধির ক্ষমতা ব্যবহার করতে হচ্ছে। আপনি একটু আগে বললেন যে, মাননীয় সকল সংসদ সদস্য পেয়েছে। আসলে সবাই পায়নি। যে কারণে আমার ৭৭ বিধিটা ব্যবহার করতে হয়েছে।”
ব্যাংক রেজল্যুশন সংশোধন বিলের উদাহরণ দিয়ে কায়সার কামাল বলেন, “বিলটি ১০ অগাস্ট মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হলেও আরও আগে সংসদে আসতে পারত। এই যে গ্যাপটা হচ্ছে, আইনসভাকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মন্ত্রিপরিষদ অনুমোদনের পর বিলটা আইনসভায় পাঠানো উচিত; যেন সকল সংসদ সদস্য আইনটা দেখে আসতে পারেন। এই ক্ষেত্রে আমরা কিছুটা ব্যত্যয় দেখছি।”
ভবিষ্যতে এ বিষয়ে নির্বাহী বিভাগকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে ডেপুটি স্পিকার বলেন, “যথাসময়ে বিল সংসদে এনে ৩৪৯ জন সদস্যের হাতে পৌঁছে দিতে হবে।”
সংসদীয় কমিটিতে পাঠালেই সব সদস্য বিল পরীক্ষা করার সুযোগ পান না মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “পরীক্ষার জন্য তো আর ৩৪৯ জন সদস্য পাচ্ছেন না, ১০ জন বা ১৫ জন পাচ্ছেন। আমি অনুরোধ করব পরবর্তীতে আইনগুলা যথাসময়ে যেন আইনসভার কাছে আসে। কারণ এটা আইনসভা।”