১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

১৩ বছরের মায়ের কাছেই থাকবে সন্তান, ফেইসবুক-টিকটক না ব্যবহারের শর্ত

“আমাদের সবার দেখা উচিত, আমাদের সন্তানরা সোশাল মিডিয়াতে কী করছে।”

১৩ বছরের মায়ের কাছেই থাকবে সন্তান, ফেইসবুক-টিকটক না ব্যবহারের শর্ত
ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 04 Aug 2026, 06:12 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:47 PM

সন্তানকে নিজের করে পেতে ঢাকার তের বছর বয়সি যে মা আইনি লড়াই করছেন, আপাতত তার কাছেই থাকবে সাত মাস বয়সি ছেলে। তবে এজন্য ফেইসবুক ও টিকটক ব্যবহার না করার শর্ত দেওয়া হয়েছে এ কিশোরী মাকে।

আর শিশুটির স্থায়ী অভিভাবকত্ব নির্ধারণে শিশুটির বাবার করা আবেদন পারিবারিক আদালতেই নিষ্পত্তি হবে বলে জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার ঢাকার লিগ্যাল এইড অফিসার সায়েম খান বাচ্চাটিকে তার মায়ের কাছে বুঝিয়ে দেন।

তিনি বলেন, “বিদ্যমান আইন অনুযায়ী আপাতত ৭ মাস বয়সি শিশুটি তার মায়ের সঙ্গেই থাকবে। শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুনানির সময় কিশোরী মাকে ফেইসবুক ও টিকটকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 

“পাশাপাশি উভয় পক্ষকেই ভবিষ্যতে আইন মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শিশুটির স্থায়ী অভিভাবকত্ব নিয়ে বাবার করা আবেদন বর্তমানে সংশ্লিষ্ট পারিবারিক আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। ফলে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সেই আদালতের রায়ের ভিত্তিতেই হবে।”

পর্যবেক্ষণে সায়েম খান বলেন, “সামাজিক অবক্ষয় চরম পর্যায়ে চলে এসেছে, এটা বলতেই হয়। কারণ বাচ্চারা সোশাল মিডিয়ায় এমনভাবে আসক্ত হচ্ছেন, মা-বাবা বিষয়টি সঠিকভাবে নজর না রাখার কারণে এ ধরনের ঘটনার সৃষ্টি হচ্ছে। আমাদের সবার দেখা উচিত, আমাদের সন্তানরা সোশাল মিডিয়াতে কী করছে। 

“তারা বায়না করলে আমরা ফোন তুলে দিচ্ছি। পরবর্তীতে সে কি করছে, কাদের সাথে মিশছে, কোনো ধরনের অপরাধে জড়িয়ে যাচ্ছে কি না—আমাদের অবশ্যই দেখতে হবে। এসমস্ত কারণে কিন্তু এ ঘটনা ঘটেছে। এটা চাইলেই কিন্তু আগে রোধ করা যেত।”

এদিন শুনানির আগে ওই বাচ্চার মা ও বাবাকে ডেকে একান্তে কথা বলেন সায়েম খান। বাচ্চাটার মায়ের উদ্দেশে লিগ্যাল অফিসার বলেন, “বাচ্চাকে নিয়ে ফেইসবুক, টিকটক করা তোমার কি ঠিক হয়েছে? এটা মানুষ নেগেটিভলি নিয়েছে।”

আর বাবার উদ্দেশে তিনি বলেন, “বাচ্চার মাকে নিয়ে মিডিয়াতে কেন নেগেটিভ বিষয় উপস্থাপন করলে? এটা কিন্তু সাইবার সুরক্ষা আইনে পড়ে।”

ফেইসবুকে পরিচয় থেকে প্রেমের সম্পর্কে জড়ানোর পর দুই বছর আগে তারা বসেন বিয়ের পিঁড়িতে। তখন কনের বয়স সবে ১১ বছর, আর বর শাকিল ওরফে শাকিব মিয়া ছিলেন ২০ বছরের তরুণ।

এর মধ্যে তাদের কোলজুড়ে আসে এক পুত্র সন্তান। আড়াই মাস আগে শিশুটিকে রেখে মাকে বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়—এমন অভিযোগ এনে গেল ১ জুলাই ঢাকা জেলা লিগ্যাল এইডে অফিসে অভিযোগ দেওয়া হয় শাকিল ও তার মা আছমার বিরুদ্ধে। বাচ্চাকে উদ্ধারের আরজি জানান মা।

অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিদের ১৬ জুলাই লিগ্যাল এইড অফিসে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে সেদিন তারা হাজির হননি। এজন্য লিগ্যাল এইড অফিসার সায়েম খান শিশুটিকে উদ্ধার করতে চকবাজার থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন। 

সেই অনুযায়ী ২৭ জুলাই শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশ। ২৮ জুলাই পরে লিগ্যাল এইড অফিসার সায়েম খান শিশুটি তার মায়ের কাছে থাকবে মর্মে জানান। পরবর্তী শুনানির দিন রেখেছিলেন মঙ্গলবার। এদিন ফেইসবুক-টিকটক ব্যবহার না করার শর্তে বাচ্চাকে মায়ের কাছে থাকার সিদ্ধান্ত দেন লিগ্যাল এইড অফিসার।

৭ মাসের বাচ্চা ফিরে পেতে লিগ্যাল এইডে ১৩ বছরের মা