১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বাংলাদেশি কর্মীকে মারধর: দক্ষিণ কোরিয়ায় শ্রম পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ, তদন্ত

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে খবরের মাধ্যমে শুক্রবার বাংলাদেশিকে মারধরের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ভিডিওতে দেখা যায়, কারখানায় ব্যবস্থাপক পদের এক ব্যক্তি বাংলাদেশি কর্মীকে চড় মারছেন এবং হুমকি দিচ্ছেন।

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 26 Apr 2026, 08:19 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:29 PM

দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচিঅন শহরের একটি টেক্সটাইল কারখানায় এক বাংলাদেশি কর্মীকে মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরায় শ্রম পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দেশটির নাগরিকরা।  

বিষয়টি নিয়ে ‘তীব্র ক্ষোভের’ সৃষ্টি হওয়ায় শ্রম পরিস্থিতি পর্যালোচনায় সরকারি পর্যায়ে তৎপরতা শুরু হয়েছে; পাশাপাশি শুরু হয়েছে পুলিশি তদন্ত।

রোববার দ্য কোরিয়া হেরাল্ডের খবরে বলা হয়, কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন সংগঠন অভিবাসী কর্মীদের ওপর হওয়া নির্যাতন বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে। 

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরের মাধ্যমে শুক্রবার বাংলাদেশিকে মারধরের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এক ভিডিওতে দেখা যায়, কারখানায় ব্যবস্থাপক পদের এক ব্যক্তি বাংলাদেশি কর্মীকে চড় মারছেন এবং হুমকি দিচ্ছেন।

ভুক্তভোগী কর্মী জানিয়েছেন, কর্মঘণ্টার বাইরে ব্যবস্থাপকের ফোন কল ধরতে না পারায় এ ঘটনা ঘটে। ওই কর্মীর দাবি, আগেও তার সঙ্গে এমন দুর্ব্যবহার করা হয়েছিল।

কোরিয়ান কনফেডারেশন অব ট্রেড ইউনিয়নস (কেসিটিইউ) বলছে, ওই বাংলাদেশি কর্মী ই-৯ ভিসাধারী, যা বিদেশি নাগরিকদের বিভিন্ন চাকরি করার অনুমতি দেয়।

এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার গেয়ংগি প্রদেশের হোয়াসিয়ং শহরের আরেকটি ঘটনা অভিবাসী কর্মীদের ওপর নিপীড়নের বিষয়টি সামনে আনে। সেখানে এক কারখানায় ম্যানেজারের ছোড়া কমপ্রেশারের আঘাতে অন্ত্রে গুরুতর আঘাত পান থাইল্যান্ডের এক কর্মী। 

দেশটির নাগরিকরা বলছেন, এসব ঘটনা কোরিয়ায় বিদেশি কর্মীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। নাগরিক সংগঠনগুলোর দাবি, সরকারের ‘যথাযথ প্রতিক্রিয়ার অভাবে’ এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে।

কেসিটিইউ এর নারী কমিটির নেতা কওন সু-জং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, “আবারও দেখা গেল অভিবাসী কর্মীরা কর্তৃপক্ষের চেয়ে গণমাধ্যমের ওপর বেশি আস্থা রাখছেন। এটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং শ্রম সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।”

দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনৈতিক নেতারাও এ ঘটনায় সরকারের কঠোর তদারকির আহ্বান জানিয়েছেন এবং ভুক্তভোগীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। 

ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক পার্টি অব কোরিয়ার প্রতিনিধি পার্ক চ্যান-দে স্থানীয় সরকারগুলোকে আরও বেশি দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “যেহেতু তাদের শ্রম পরিস্থিতি পরিদর্শনের ক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে, তাই আরও সতর্ক হওয়া উচিত। স্থানীয় সরকারগুলো, যারা তৃণমূল পর্যায়ের পরিস্থিতি সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো জানে, তাদের আরও ‘পুঙ্খানুপুঙ্খ এবং জবাবদিহিতামূলক’ তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।”

বাংলাদেশিকে মারধরের ঘটনা নিয়ে শনিবার দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মসংস্থান ও শ্রম মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা ওই টেক্সটাইল কারখানায় বিশেষ শ্রম পরিদর্শন শুরু করেছে। তারা ওই কারখানার সামগ্রিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবে এবং সেখানে কর্মী সুরক্ষায় কোনো অবহেলা ছিল কি না তা পরীক্ষা করবে। 

যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট কারখানার মালিক বিদেশি কর্মী নিয়োগের যোগ্যতা হারাতে পারেন। ইনচিঅন সেওবু পুলিশ স্টেশন এই হামলার মামলাটি তদন্ত করছে।

এছাড়া ভুক্তভোগী বাংলাদেশির ইচ্ছা অনুযায়ী, তাকে ‘অস্থায়ী আশ্রয়’ এবং কর্মস্থল পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও সহায়তা করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কোরিয়ার শ্রম মন্ত্রণালয়। 

কোরিয়ার শ্রমমন্ত্রী কিম ইয়ং-হুন বলেন, “বিদেশি কর্মীদের ওপর সহিংসতা, বিশেষ করে যখন তা রেকর্ড করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, তা কেবল শ্রম অধিকারের লঙ্ঘন নয় বরং গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং অপরাধমূলক কাজ।”