Published : 14 Sep 2026, 05:16 PM
হাই কোর্টের নির্দেশনার আলোকে দেশের মাদ্রাসাগুলোতে যৌন নির্যাতন, ধর্ষণ ও নিষ্ঠুরতা প্রতিরোধে জাতীয় পর্যায়ে একটি সেল গঠনের জন্য সরকারকে আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন একজন আইনজীব।
প্রতিটি মাদ্রাসায় শিশু যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ ও সুরক্ষা কমিটি গঠনের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মদ নূরুল হুদা স্বরাষ্ট্র, শিক্ষা, আইন, সমাজকল্যাণ ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিবদের এই নোটিস পাঠিয়েছেন।
নোটিস পাওয়ার পাঁচ দিনের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে রিট মামলা করার কথা বলেছেন এই আইনজীব।
নোটিস পাঠানোর বিষয়ে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণ অভিযোগ ওঠেছে। এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের জন্যই এই নোটিস পাঠানো হয়েছে।
আইনজীবী নুরুল হুদা বলেন, নোটিসে দুটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর একটি বাংলাদেশের প্রতিটি মাদ্রাসায় শিশু যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ ও সুরক্ষা কমিটি গঠন এবং অন্যটি জাতীয় পর্যায়ে একটি শিশু যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ ও সুরক্ষা সেল প্রতিষ্ঠা।
তিনি বলেন, হাই কোর্ট বিভাগের ‘বাংলাদেশ ন্যাশনাল উইমেন লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএনডব্লিউএলএ) বনাম বাংলাদেশ ও অন্যান্য’ মামলায় যৌন হয়রানি প্রতিরোধে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, তার আলোকে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি গঠনের ব্যবস্থা নেওয়া হলেও মাদ্রাসায় এ ধরনের কাঠামো গড়ে ওঠেনি।
নোটিসে বলা হয়েছে, ২০১০ সালের ওই রিট মামলার রায় ২০১১ সালের ৪ জানুয়ারি দেওয়া হয়। মাদ্রাসায় শিশু যৌন নির্যাতন প্রতিরোধে ওই মামলার নির্দেশনার আদলে কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়েছে।
নোটিসে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় প্রাতিষ্ঠানিক শিশু যৌন নির্যাতনের ৩৯টি ঘটনার মধ্যে ২৩টি বা ৫৯ শতাংশই ঘটেছে মাদ্রাসায়। অথচ মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর অনুপাত প্রায় ১৬ শতাংশ। মাদ্রাসা শিক্ষার্থী আনুমানিক ২৭ লাখ ৬০ হাজার এবং স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থী প্রায় ১ কোটি ৪৪ লাখ বলে নোটিসে তুলে ধরা হয়েছে।
এ ছাড়া চলতি বছরের ১৭ মার্চ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসেরও কম সময়ে দেশের অন্তত ১৮টি জেলায় মাদ্রাসার শিক্ষক, অধ্যক্ষ ও তত্ত্বাবধায়কদের বিরুদ্ধে শিশুদের ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন, যৌন হয়রানি ও গুরুতর শারীরিক নিষ্ঠুরতার অন্তত ৩০টি পৃথক অভিযোগ সংবাদমাধ্যম থেকে সংগ্রহ করার কথা নোটিসে বলা হয়েছে।
নোটিসে বলা হয়েছে, এসব ঘটনায় পাঁচ, ছয় ও সাত বছর বয়সী শিশুরাও ভুক্তভোগী হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ছয় মাস বা প্রায় এক বছর ধরে নির্যাতন চললেও তা প্রকাশ্যে আসেনি।
এ আইনজীবী তার নোটিসে রাজধানী ঢাকা ও বিভিন্ন জেলার কয়েকটি ঘটনাও তুলে ধরেন।
সেল ও কমিটি গঠনের পাশাপাশি নোটিসে শিশু আইন, ২০১৩-এর অধীনে গঠিত জাতীয়, জেলা ও উপজেলা শিশুকল্যাণ বোর্ডগুলোকে তাদের আওতাধীন প্রতিটি মাদ্রাসার শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা নিরীক্ষা করে ফলাফল প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে।
প্রতিটি মাদ্রাসায় লিখিত শিশু সুরক্ষা নীতি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন, স্বাধীন ও গোপনীয় অভিযোগ ব্যবস্থা, শিশুদের জন্য জাতীয় শিশু-সুরক্ষা হটলাইন এবং জেলা শিশু-সুরক্ষা কর্তৃপক্ষের কাছে সরাসরি অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা করার দাবিও করেছেন তিনি।