Published : 02 May 2026, 02:16 AM
বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি জেলা বার নির্বাচনে ‘গুরুতর অনিয়মের’ অভিযোগ তুলেছে কাউন্সিল অব বারস অ্যান্ড ল সোসাইটিজ অব ইউরোপ (সিসিবিই)।
বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে চিঠি দিয়ে এসব ‘অনিয়মের’ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপের আইনজীবী সমিতিগুলোর এই শীর্ষ সংস্থা।
সিসিবিই সভাপতি রোমান জাভর্শেক এর স্বাক্ষরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে পাঠানো ওই চিঠিতে বাংলাদেশে আইনজীবীদের ‘ন্যায্য অধিকার ক্ষুণ্ণ হওয়ার’ অভিযোগ তুলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
‘ইরেগুলারিটিজ ইন সেভারেল ডিস্ট্রিক্ট বার ইলেকশনস’ শিরোনামের এই চিঠি সিসিবিই তাদের ফেইসবুক পেইজে প্রকাশ করেছে। ৪৬টি দেশের ১০ লাখের বেশি আইনজীবীর প্রতিনিধিত্ব করে এ সংস্থা।
ওই চিঠির বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি হুমায়ূন কবির মঞ্জু বলেন, এ বিষয়ে তিনি অবগত নন।
তবে সুপ্রিম কোর্টের আরেক আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, “বার নির্বাচনে অনিয়ম-কারচুপি নিয়ে ইউরোপের আইনজীবীদের উদ্বেগ আমাদের জন্য লজ্জার।”
আইন অঙ্গনে এমন ‘অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ড’ বন্ধে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
ফ্রান্সভিত্তিক সংগঠন জাস্টিস মেকার্স বাংলাদেশ (জেএমবিএফ)-এর তথ্যের বরাত দিয়ে সিসিবিই চিঠিতে লিখেছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশের একাধিক জেলা বার ও সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত আইনজীবী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অংশগ্রহণে ‘বাধা’ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মনোনয়নপত্র জমাদানেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে।
কিছু প্রার্থীকে ‘শারীরিকভাবে হয়রানি’ করা হয়েছে এবং ‘ফ্যাসিস্টদের সহযোগী’ আখ্যা দিয়ে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে বলে তুলে ধরা হয়েছে চিঠিতে।
সিসিবিই বলছে, পুলিশ হস্তক্ষেপ করে প্রার্থীদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারে চাপ দিয়েছে এবং ‘পূর্ববর্তী সরকারের সহযোগী’ আখ্যা দিয়ে অনেককে নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে ‘বঞ্চিত’ করা হয়েছে বলে অভিযোগ এসেছে।
বাংলাদেশ সরকারের কাছে তিনটি দাবি জানানো হয়েছে ওই চিঠিতে। দাবিগুলো হল–বার নির্বাচনে সকল আইনজীবীর সমান ও বৈষম্যহীন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, নির্বাচনী অনিয়ম, বাধাদান ও সহিংসতার তদন্ত করা এবং সকল আইনজীবী যেন ভয়ভীতি ও হয়রানি ছাড়াই পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা।
আইনজীবীদের ভূমিকা বিষয়ে জাতিসংঘের মৌলিক নীতিমালার ১৬, ১৭, ১৮ ও ২৩ নম্বর অনুচ্ছেদের কথা চিঠিতে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে, যেখানে আইনজীবীদের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা এবং মত প্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা আছে।
পাশাপাশি আইন পেশার সুরক্ষা সংক্রান্ত নতুন ইউরোপীয় কনভেনশনে বাংলাদেশকে স্বাক্ষর ও অনুমোদন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সিসিবিই।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া সদস্য পদপ্রার্থী উপমা বিশ্বাস বলেনে, “সিসিবিইর মত একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা যখন সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ ধরনের বিষয় তুলে ধরে, তখন বিষয়টির গুরুত্ব বোঝা যায়।
“আইনজীবীদের স্বাধীনভাবে কাজ করার অধিকার এবং বার নির্বাচনে সবার সমানভাবে অংশ নেওয়ার সুযোগ—এগুলো আইনের শাসনের মূল ভিত্তি।”
তিনি বলেন, “আমার নমিনেশন গ্রহণ করা হলে আমি খ্রিষ্টান সম্প্রদায় থেকে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রথম প্রার্থী হতাম। মানুষ আমাদের কাছে আসে ন্যায়বিচারের আশায়। কিন্তু আমরা যদি নিজেরাই নিজেদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে না পারি, তাহলে সেই আস্থার জায়গাটা কীভাবে ধরে রাখব?
“তাই আমি মনে করি, বিষয়গুলো দ্রুত ও গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার, যাতে আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আস্থা এবং দেশের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ থাকে।”