১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

বাঘের জন্য সুন্দরবন নিরাপদ করতে ১০ সদস্যের কমিশন

মন্ত্রী বলছেন, এই কমিশন সুন্দরবনের বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা বৃদ্ধিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, অবৈধভাবে দখল করা বনভূমি পুনরুদ্ধার এবং বনসংলগ্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করবে।

বাঘের জন্য সুন্দরবন নিরাপদ করতে ১০ সদস্যের কমিশন
বাঘ দিবসের অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। ছবি: পিআইডি

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 29 Jul 2026, 09:23 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:45 PM

বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল রক্ষা এবং মানুষ-বন্যপ্রাণী সংঘাত নিরসনে সরকার ১০ সদস্যের একটি কমিশন গঠন করেছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

তিনি বলেছেন, বাঘ সংরক্ষণে সরকারের নতুন পদক্ষেপের অংশ হিসেবে গঠিত এই কমিশন সুন্দরবনের বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা বৃদ্ধিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, অবৈধভাবে দখল করা বনভূমি পুনরুদ্ধার এবং বনসংলগ্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করবে।

বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বুধবার ‘বিশ্ব বাঘ দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ বিষয়ে কথা বলেন মন্ত্রী। 

এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ছিল– ‘সবাই হই সচেতন, বাঘ করি সংরক্ষণ’।

আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, সুন্দরবনের বাঘ ও এর প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণে সরকার ‘বদ্ধপরিকর’। 

"বাঘ ও বাঘের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বা ট্রফি পাচারের বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে।"

বন বিভাগের নিরলস প্রচেষ্টা ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ক্যামেরা ট্র্যাপিং জরিপে সুন্দরবনে ২০১৫ সালে ১০৬টি, ২০১৮ সালে ১১৪টি এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালে ১২৫টি বাঘ পাওয়া গেছে।

বাঘ সংরক্ষণে ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিম, কমিউনিটি প্যাট্রোলিং গ্রুপ এবং স্থানীয় বননির্ভর জনগোষ্ঠীর ভূমিকার প্রশংসা করেন মন্ত্রী। 

তিনি জানান, বাঘ-সংক্রান্ত অপরাধের তথ্য দিলে ২৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

বাঘকে বনের ‘কিস্টোন স্পিসিস’ বা প্রধান প্রজাতি এবং ‘প্রাকৃতিক পাহারাদার’ হিসেবে বর্ণনা করে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, বাঘ সংরক্ষণ শুধু একটি প্রাণী রক্ষার বিষয় নয়; এর সঙ্গে সুন্দরবনের অন্যান্য প্রাণী, বনজ সম্পদ, খাদ্য, প্রজননক্ষেত্র ও সামগ্রিক প্রতিবেশ ব্যবস্থার সুরক্ষা জড়িত।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম সুন্দরবনে বাঘের আবাসস্থল নিরাপদ করতে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, বাঘের সুপেয় পানির সুযোগ বাড়াতে সুন্দরবনে ৮০টি পুকুর খনন করা হয়েছে এবং বিশ্রামের জন্য ২০টি টিলা তৈরি করা হয়েছে। লোকালয় থেকে বন আলাদা করতে নাইলনের নেট দিয়ে বেড়া দেওয়া হয়েছে, ফলে বাঘ এখন আর লোকালয়ে প্রবেশ করছে না।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ফাহমিদা খানম বলেন, বাঘের নিরাপদ আবাসস্থল গড়ে তুলতে টেকসই পর্যটন নিশ্চিত করা জরুরি। 

সেজন্য সুন্দরবনে পর্যটক সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করার বিষয়টি ভেবে দেখা দরকার বলে মত দেন তিনি।

প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এম এ আজিজ এবং খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ।

অন্যদের মধ্যে ওয়াইল্ডটিমের প্রধান নির্বাহী মো. আনোয়ারুল ইসলাম এবং আইইউসিএন বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ বিপাশা এস হোসেন আলোচনায় অংশ নেন।