“এই সপ্তাহের মধ্যে আমাদের দাবি না মানলে আবার রাজপথে নেমে যাব,” বলেন হাসনাত।
Published : 22 Oct 2024, 06:47 PM
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র নিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ‘মিথ্যাচার’ করেছেন অভিযোগ তুলে এ সপ্তাহের মধ্যে তার পদত্যাগের দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিক্ষোভ ও সমাবেশ হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকাল ৩টা থেকে বিভিন্ন ব্যানার নিয়ে দলে দলে শহীদ মিনারে জড়ো হন আন্দোলনকারীরা। সেখানে সমাবেশে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ও সংবিধান বাতিলসহ পাঁচটি দাবি তুলে ধরেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ।
‘বৈষম্যবিরোধী চিকিৎসক ও স্টুডেন্ট পরিষদ’, ‘জাতীয় নাগরিক কমিটি, ঢাকা মহানগর’, ‘বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন, মিরপুর’ লেখা সম্বলিত ব্যানার নিয়ে শহীদ মিনারে সমবেত হন আন্দোলনকারীরা। তারা রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ চেয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। সমাবেশ শেষে তারা বিকাল ৫টায় মিছিল নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ঘুরে রাজু ভাস্কর্যের সামনে যান।
শহীদ মিনারে সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, “আমরা এই শহীদ মিনার থেকে বিপ্লব শুরু করেছিলাম। সেই বিপ্লবের ভয়ে বাংলাদেশ থেকে পালিয়েছিলেন ফ্যাসিস্ট হাসিনা। আর এখন, আপনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে জনতার সঙ্গে প্রতারণা করছেন।
“আপনি ৫ অগাস্টে যা বলেছেন, তা এখন কার নির্দেশে ভুলে গিয়ে নতুন কথা বলছেন? আমরা স্পষ্ট বলে দিতে চাই- খুনি হাসিনা যেভাবে পালিয়েছে, চুপ্পুকেও পালাতে হবে। দেশের প্রশ্নে, দশের প্রশ্নে বিপ্লবীরা সব সময় মাঠে আছে।”
ছাত্রলীগকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করে আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে নিষিদ্ধের দাবি তুলেছেন মাসউদ। তার ভাষ্য, “যে ছাত্রলীগের হাতে মানুষের মৃত্যু হয়েছে, তাদের রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই।”
সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত আবুল্লাহ পাঁচটি দাবি ঘোষণা করেন। এগুলো হল –
> বিদ্যমান সংবিধান অনতিবিলম্বে বাতিল করে ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে নতুন সংবিধান লেখা।
> ছাত্রলীগকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে এই সপ্তাহের মধ্যে আজীবন নিষিদ্ধ করতে হবে।
> রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে এই সপ্তাহের মধ্যে পদত্যাগ করতে হবে।
> চলতি সপ্তাহের মধ্যে জুলাই বিপ্লবের আলোকে ‘প্রোকলেমেশন অব রিপাবলিক’ ঘোষণা করতে হবে। বাংলাদেশের বিদ্যমান গণতন্ত্রকামী ক্রিয়াশীল রাজনৈতিক দলের মতের ভিত্তিতে বাংলাদেশ চলবে।
> দশম, একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবৈধ ঘোষণা করতে হবে। এই তিন নির্বাচনে যারা নির্বাচিত হয়েছে, তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে হবে এবং তারা যেন কখনও বাংলাদেশে নির্বাচন করতে না পারে, সেজন্য আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।
হাসনাত বলেন, “এই সপ্তাহের মধ্যে আমাদের পাঁচ দফা দাবি না মানা হলে আমরা আবার রাজপথে নেমে যাব।”
সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক সারজিস আলম, নুসরাত তাবাসসুম, আবু বাকের মজুমদার, রিফাত রশীদও বক্তব্য দেন।
ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে গত ৫ অগাস্ট ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা, যার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে।
সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সেদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শেখ হাসিনার পদত্যাগের খবর দেন। সেদিন রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। এবং আমি তা গ্রহণ করেছি।”
এরপর সুপ্রিম কোর্টের মতামত নিয়ে নোবেলবিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সেই সরকারের শপথ পড়ান।
তার আড়াই মাসের মাথায় গত ১৯ অক্টোবর মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের ‘কোনো দালিলিক প্রমাণ’ তার কাছে নেই।
এ নিয়ে নানা আলোচনার মধ্যে সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সাংবদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, “রাষ্ট্রপতি বলেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র পান নাই, এটা হচ্ছে মিথ্যাচার, উনার শপথ লঙ্ঘনের শামিল।”
রাষ্ট্রপতির ওই বক্তব্য ঘিরে ব্যাপক আলোচনার মধ্যে তার পদত্যাগের দাবি উঠেছে।
আরও পড়ুন-
রাষ্ট্রপতি 'মিথ্যা' বলেছেন, পদে থাকার যোগ্যতা নিয়ে ভাবতে হবে: আইন