Published : 10 Aug 2026, 05:59 PM
গুমের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিশনের অন্তর্বর্তীকালীন দুটি প্রতিবেদনকে চ্যালেঞ্জ জানানো একটি রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছে হাই কোর্ট।
সোমবার বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
রিট আবেদনকারীর আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আদালত রিটকারীরর মামলা করার আইনি অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, রিটকারীর এ ধরনের জনস্বার্থ মামলা করার মতো আইনি অধিকার নেই।”
রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়া হবে কি না, এমন প্রশ্নে আইনজীবী জানান, মক্কেলের নির্দেশনা অনুযায়ী আপিল বিভাগে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে তিনি দাবি করেন, শুনানিতে তাদের মূল যুক্তির বিপরীতে কোনো কার্যকর পাল্টা যুক্তি উপস্থাপন করা হয়নি।
নওগাঁ সদর উপজেলার বাসিন্দা নাজনীন পারভীন স্বপ্না রিট আবেদনটি করেন।
আবেদনে তিনি নিজেকে একজন ‘সাধারণ, আইন মান্যকারী নাগরিক ও নিয়মিত করদাতা’ হিসেবে তুলে ধরেন।
তার দাবি, কমিশনের ‘বিতর্কিত প্রতিবেদনের’ কারণে তার পরিবারের একজন সদস্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
রিটে সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব এবং গুম তদন্ত কমিশনের সভাপতিকে বিবাদী করা হয়।
রিট আবেদনকারীর যুক্তি ছিল, ১৯৫৬ সালের কমিশন অব ইনকোয়ারি অ্যাক্ট বা কমিশন গঠনের প্রজ্ঞাপনে অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন দাখিলের কোনো বিধান বা ক্ষমতা কমিশনকে দেওয়া হয়নি। তাই ওই দুটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন কেন বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়ে রুল জারির আরজি জানানো হয়। রিট আবেদনটি পর্যালোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট নথিপত্র হাই কোর্টে তলব করার আবেদনও ছিল।
এর আগে রিট আবেদনটি বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি আব্দুর রহমানের বেঞ্চে দুই দিন শুনানি হয়েছিল। রাষ্ট্রপক্ষে সেখানে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।
আইনজীবী আজিজুর রহমান বলেন, ওই বেঞ্চের প্রিসাইডিং জাজ রুল ইস্যু করার মতো অবস্থানে গেলেও দ্বিতীয় বিচারপতি বিব্রতবোধ করেন এবং বিষয়টি শুনতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এরপর নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হলে তিনি বিচারপতি আহমেদ সোহেলের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে শুনানির জন্য নির্ধারণ করে দেন। সোমবার এই বেঞ্চেই শুনানি শেষে রিটটি খারিজের আদেশ আসে।