২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

দেশ থেকে ‘৪১ জনকে যুক্তরাজ্যে নিতে চেয়েছিলেন’ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মেয়র

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ লিখেছে, হোম অফিসের তদন্তে দেখা গেছে, মোট ১৩টি চিঠি পাঠানো হয়েছিল মেয়রের কার্যালয় থেকে। এর বাইরে নিজেই ছয়টি চিঠি পাঠানোর কথা স্বীকার করেন আমিরুল।

দেশ থেকে ‘৪১ জনকে যুক্তরাজ্যে নিতে চেয়েছিলেন’ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মেয়র
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে আমিরুল ইসলাম। ছবি: দ্য টেলিগ্রাফ

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Sep 2025, 01:00 AM

Updated : 26 Aug 2026, 02:22 PM

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত লেবার পার্টির একজন রাজনীতিক নিজের মেয়র পদমর্যাদার অপব্যবহার করে বাংলাদেশ থেকে ৪১ জন আত্মীয় ও বন্ধুকে যুক্তরাজ্যে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে টেলিগ্রাফের এক খবরে বলা হয়েছে।

অনুসন্ধানের ভিত্তিতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটি বলছে, সেসব ব্যক্তির ভিসা পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টায় লেবার পার্টির নেতা মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম ঢাকায় ব্রিটিশ হাই কমিশনে নিজের ক্রেস্ট ও লোগোযুক্ত চিঠি পাঠিয়েছেন।

‘আসল’ ও ‘জাল’– দুই ধরনের চিঠিই পাঠিয়েছেন তিনি। ভিসার আবেদনগুলো যেন ‘ইতিবাচকভাবে’ দেখা হয়, চিঠিতে সেই আর্জিও জানান উত্তর লন্ডনের এনফিল্ড কাউন্সিলের মেয়র আমিরুল।

টেলিগ্রাফ বলছে, চিঠিগুলো তারা দেখেছে, যেখানে তিনি দূতাবাসের কর্মীদের অনুরোধ করেছিলেন, যেন তার ‘প্রিয় বন্ধু’ ও ‘পরিবারের সদস্যদের জন্য’ ভিসা আবেদন প্রক্রিয়াটি নিশ্চিত করা হয়।

উত্তর লন্ডনের এনফিল্ড কাউন্সিলের মেয়র হিসেবে নিজের শপথ অনুষ্ঠানে যেন এসব ব্যক্তি অংশগ্রহণ করতে পারেন, সে উদ্দেশ্যে এসব চিঠি লেখেন আমিরুল।

টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়, ৪৭ বছর বয়সী আমিরুলের বিরুদ্ধে অভিবাসনসংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগও রয়েছে, যেগুলো হোম অফিস তদন্ত করে দেখছে।

সংবাদমাধ্যমটি লিখেছে, ‘পরিবার, বন্ধুবান্ধব ও সহযোগীদের ভিসা পেতে সহায়তা’ এবং ‘ব্যক্তিগত স্বার্থে’ তিনি নিজের পদমর্যাদার অপব্যবহার করে কাউন্সিলের সুনাম নষ্ট করেছেন বলেও প্রমাণ মিলেছে।

স্থানীয় প্রশাসনের করা স্বাধীন তদন্ত কমিশনের ১৬০ পৃষ্ঠার ‘গোপন’ প্রতিবেদনের উপসংহারে বলা হয়েছে, আমিরুল ইসলাম কিছু চিঠি পাঠিয়েছিলেন মেয়র হওয়ারও বছর খানেক আগে। মেয়রের দায়িত্ব নিশ্চিত হওয়ার আগেও কিছু চিঠি পাঠিয়েছিলেন তিনি। 

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু চিঠিতে ভিসা আবেদনকারীর পাসপোর্ট নম্বর ও জন্মতারিখও দেওয়া থাকত, যেন দ্রুত সেগুলোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

কিছু চিঠি পাঠানো হয় মেয়রের কার্যালয় থেকে। কিছু জাল চিঠিও পাওয়া গেছে, যেগুলো কাউন্সিলর কার্যালয় থেকেই পাঠানো হয়েছিল বলে ধারণা করছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।

২০২৪ সালের মে মাসের ওই শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ৪১ জনের জন্য আবেদন জানানো হলেও ভিসা পেয়েছিলেন মাত্র একজন।

তদন্তে দেখা গেছে, মোট ১৩টি চিঠি পাঠানো হয়েছিল মেয়রের কার্যালয়ের টিমের মাধ্যমে। এর বাইরে নিজেই ছয়টি চিঠি পাঠানোর কথা স্বীকার করেন আমিরুল।

আর ১১টি চিঠির উৎস নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে তদন্ত কর্মকর্তাদের বিশ্বাস, এসব চিঠিও মেয়রই পাঠিয়েছিলেন।

বিশেষজ্ঞদের বরাতে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, এভাবে চিঠি পাঠাতে কাউন্সিলের কর্মীরা অস্বস্তিবোধ করছিলেন। সম্ভবত এ কারণে পরবর্তী সময়ে জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়।

চিঠিগুলোর কোনোটিতে মেয়রের সই, কোনোটিতে আবার তার পক্ষে কাজ করা কাউন্সিল কর্মীর সই রয়েছে। 

এসব চিঠিতে ভিসা আবেদনকারীকে ‘ভালো বন্ধু’ আখ্যা দিয়ে যুক্তরাজ্যে ‘বিশেষ অনুষ্ঠানের অথিতি’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। 

কোনো কোনো চিঠিতে এটাও লেখা ছিল যে, “তাদের উপস্থিতি আমার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আমিরুল ইসলাম টেলিগ্রাফকে বলেন, তিনি অন্যায় কিছু করেননি।

তিনি বলেন, ২০০৩ সালে তিনি যুক্তরাজ্যে আসেন। মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় তার আত্মীয়স্বজন গর্বিত হন এবং শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আগ্রহ প্রকাশ করেন।